নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে বদলি হওয়া গাজীপুর মহানগর পুলিশের গাছা থানার সেই ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার ওসি হিসাবে পদায়ন করার অভিযোগ উঠেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের মতো মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে থানার ওসি পদায়নের ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত বুধবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে কসবা থানায় পদায়ন করা হয়। একই আদেশে কসবা থানার ওসি নাজনীন সুলতানাকে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক হিসাবে পদায়ন করা হয়েছে। নাজনীন সুলতানা জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছিলেন। জানা গেছে, কয়েকদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় যোগদান করেন বিতর্কিত পুলিশ পরিদর্শক আলী মোহাম্মদ রাশেদ। গাজীপুর মহানগর পুলিশের গাছা থানায় দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠে। মোটা অঙ্কের ঘুস নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার আসামিকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়াসহ মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণসহ নানা বির্তকিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও ওসি রাশেদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কথা উঠে এসেছে বলে সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, কসবা থানার ওসি করার জন্য চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি অফিস ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার অফিসকে ৪০ লাখ টাকার মাধ্যমে ম্যানেজ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বঞ্চিত থাকা কর্মকর্তাদের অনেকেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের ঘুস দিতে না পারায় থানার ওসির দায়িত্ব পাচ্ছেন না। তবে টাকার বিনিময়ে আওয়ামীপন্থি ও বিতর্কিত ওসি রাশেদ কসবার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সীমান্তবর্তী থানার ওসি হিসাবে পদায়ন করায় স্থানীয়ভাবেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি বঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই পুলিশ পরিদর্শক জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের আস্থাভাজন কয়েকজন বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি থানার ওসির দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ যারা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বঞ্চিত ছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে বিতর্কিতদের পদায়ন করা হচ্ছে। এটি গণ-অভ্যুত্থানের চেতনারও পরিপন্থি। রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে গড়ে ওঠা একটি চক্র এ অর্থ লেনদেনে জড়িত বলেও জানান তারা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কসবা থানায় পদায়ন পাওয়া ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হচ্ছে তা সঠিক নয়। পদায়নের জন্য আমি কাউকে টাকা দিইনি। জেলা পুলিশের নিয়মিত বদলির অংশ হিসাবেই কসবায় আমাকে পদায়ন করা হয়েছে।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘স্বাভাবিক বদলির অংশ হিসাবে তাকে কসবা থানায় পদায়ন করা হয়েছে। পদায়নের জন্য কাউকে টাকা দিয়ে থাকলে সেটা আমার জানা নেই।’








