বদলগাছীর সরকারি খাস চাঁদপুর হাটে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি ওজনে কৃষিপণ্য কেনাবেচা এবং অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি মূল্য তালিকা না থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে একদিকে অতিরিক্ত ওজনের কারণে, অন্যদিকে বেশি খাজনা পরিশোধ করায় কৃষকরা দ্বিগুণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সরেজমিন দেখা যায়, হাটে কোথাও সরকার নির্ধারিত খাজনার হার বা মূল্য তালিকা টানানো হয়নি। ফলে কৃষকরা কত টাকা কোন খাতে দিচ্ছেন, সেই বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি হিসাবে এক মন সমান ৪০ কেজি হলেও চাঁদপুর হাটে ৪২ থেকে ৪৪ কেজিতে এক মন ধরে কৃষিপণ্য কেনাবেচা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রতিমনে অতিরিক্ত ২০ টাকা করে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। কৃষক সাকোয়াত ও রবিউল বলেন, ‘৪৩-৪৪ কেজিতে এক মন ধরে পণ্য নিয়েছে। আবার প্রতিমনে ২০ টাকা করে খাজনাও কেটেছে। কোনো মূল্য তালিকা না থাকায় ইচ্ছামতো টাকা নেওয়া হচ্ছে।’ আরেক কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, ‘উৎপাদন খরচ তুলতেই কষ্ট হচ্ছে। তার ওপর অতিরিক্ত ওজন ও বাড়তি খাজনা দিয়ে আমরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’ খাজনা আদায়ের দায়িত্বে থাকা সোহেল হোসেন ও বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘সাবেক জেলা ছাত্রদল সভাপতি মামুন ইউএনও অফিস থেকে হাটের লিজ নিয়েছেন। তার নির্দেশনায় আমরা খাজনা আদায় করছি।’ তবে সরকারি খাস হাটে খাজনা আদায়ের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে উপস্থিত দেখা যায়নি। এতে রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খাস খাজনা আদায়ের দায়িত্বে থাকা বালুভরা ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয় বলতে পারবেন।’ ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘বিএনপি বা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খাজনা আদায় করছেন, এমন তথ্য আমার জানা নেই। এ ধরনের কাজ হওয়ার সুযোগও নেই।’ মূল্য তালিকা না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী মাসের মধ্যে হাটে সরকার নির্ধারিত খাজনার মূল্য তালিকা টানানোর ব্যবস্থা করা হবে।








