রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলীর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সুপ্তশ্রী সাহা।

শনিবার (১১ জুলাই) বাঘাইছড়ি থানায় করা জিডিতে ওমর আলীর বিরুদ্ধে পিআইও কার্যালয়ে এসে দুর্ব্যবহার ও হট্টগোল করার কথা বলা হয়েছে।

জিডিতে সুপ্তশ্রী সাহা উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর আমি বাঘাইছড়ি উপজেলায় যোগদান করি। যোগদানের পর থেকে বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী উপজেলা সরকারি প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় সাবেক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম, হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন

‌‘সর্বশেষ গত ২২ জুন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আমার অফিসে এসে উপজেলা প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথির তথ্য চান। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় উনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী অন্যের লাইসেন্সের সিকিউরিটি মানির টাকা তার কর্মীর হাতে তুলে দিতে বলেন। ওই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারই ধারাবাহিকতায় তার দলের কিছু অনুসারী গত ১০ জুলাই আমার অফিসে এসে বন্যার্তদের জন্য বিতরণের ত্রাণ তাদের দিয়ে দিতে বলেন। এতে আমি রাজি না হওয়ায় উশৃঙ্খল আচরণসহ হট্টগোল করে চলে যান। একই দিন সন্ধ্যায় মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ত্রাণ বিতরণ করতে গেলে ‘হুমায়ুন রশিদ’ নামের ফেইসবুক আইডি থেকে লাইভে গিয়ে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন আজে-বাজে কথা বলেন। এছাড়া আমার নাম উল্লেখ করে সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন

২৪ এর চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান ছাত্রদল নেতার

থানায় জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দীন মজুমদার। তিনি বলেন, পিআইও উপজেলা বিএনপির সভাপতির নাম উল্লেখ করে একটি জিডির আবেদন করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী বলেন, পিআইওর করা অভিযোগ সত্য নয়। রাজনৈতিকভাবে আমার কিছু প্রতিপক্ষ আছে, তারা ষড়যন্ত্র করছে। আমি একজনের বিলের বিষয়ে কথা বলার জন্য তার রুমে যাই, কিন্তু কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করিনি।

আবু দারদা খান আরমান/কেএসআর