রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে আটটি গরু। পরে ভেসে যাওয়া আটটি গরুরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের মহাজনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক এ ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দরিদ্র কৃষক ক্যাচিপ্রু মারমা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মহাজনপাড়ার বাসিন্দা কৃষক ক্যাচিপ্রু মারমার ছয়টি এবং স্থানীয় সাংবাদিক আজগর আলীর দুটি গরু পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে যায়। প্রতিদিনের মতো গরুগুলো গ্রামের পাশের চারণভূমিতে ঘাস খেতে গিয়েছিল। কিন্তু রাতভর ভারী বর্ষণের কারণে খালের পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়। সেই স্রোতেই গরুগুলো ভেসে যায়।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রাম বিভাগ / বন্যা-পাহাড়ধসে ৬ দিনে ৪৩ প্রাণহানি, ক্ষতিগ্রস্ত ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ
স্থানীয়রা জানান, সকালে গরুগুলোকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে আটটি গরুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজার চৌকিদার মিজান বলেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিন গরুগুলো খাল পার হয়ে চারণভূমিতে যায় এবং বিকেলে ফিরে আসে। কিন্তু আজ ভোরের পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে গরুগুলো ভেসে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ক্যাচিপ্রু মারমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জীবনে কখনো ভাবিনি এভাবে আমার সব শেষ হয়ে যাবে। আমার ছয়টি গরুই ছিল পরিবারের প্রধান সম্পদ। এক মুহূর্তে সব ভেসে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব, কীভাবে সংসার চালাবো জানি না। সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।
আরও পড়ুন
‘বন্যায় বাপ-দাদার শেষ স্মৃতিটুকু নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো’
সাংবাদিক আজগর আলী বলেন, আমার দুটি গরু পানির তোড়ে ভেসে গেছে। দীর্ঘদিন লালন-পালন করা গরুগুলো হারিয়ে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত সব কৃষকের জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা বলেন, ঘটনার খবর পেয়েছি। স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
রাজস্থলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিন্টু বলেন, বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে রয়েছে কৃষি বিভাগ। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।
আবু দারদা খান আরমান/কেএসআর








