মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে ফ্রান্স। বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে ফরাসিদের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। উসমান দেম্বেলে ও কিলিয়ান এমবাপের গোলে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স ব্রাজিল ও পশ্চিম জার্মানির পর তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠার গৌরব অর্জন করল। ২০০২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার জার্মানির সর্বকালের রেকর্ডের দিকে এখন চোখ ফ্রান্সের। ​মরক্কোর বিপক্ষে গোল করার মাধ্যমে কিলিয়ান এমবাপে নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন আসরে অন্তত আটটি করে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোতেও এমবাপে সমান পারদর্শী। চলতি আসরে তার মোট গোলে অবদান ১১টি, যা ১৯৭০ সালের পর কোনো এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখার রেকর্ডটিও এখন তার দখলে। সব মিলিয়ে মাত্র ২০টি ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপে ২০ গোল স্পর্শ করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ​ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের ড্রেসিংরুমে উপস্থিত হয়ে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান দেশটির কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড থিয়েরি অঁরি। দলের রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ে মুগ্ধ অঁরি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন। বর্তমান বিশ্লেষক অঁরি দলের প্রশংসা করে বলেন, "সত্যি বলতে, তোমাদের আর কী বলব, সেটাই বুঝতে পারছি না। বলের দখলে থাকলে তোমরা বরাবরের মতোই অসাধারণ। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধকর বিষয় হলো, দলটি কত দ্রুত বল ফিরিয়ে আনতে পারে।" ​অঁরি দলের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করলেও খেলোয়াড়দের আত্মতুষ্টিতে না ভোগার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "বল দখলে না থাকলে দলটি যা করে, তা অসাধারণ। প্রতিপক্ষের অর্ধে বল ধরে রাখা, নিরবচ্ছিন্ন চাপ সৃষ্টি করা এবং প্রতিপক্ষকে দম বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা সত্যিই অসাধারণ। দেশমকে অভিনন্দন, দলকে অভিনন্দন, সমর্থকদেরও অভিনন্দন। আমি টেলিভিশনে ছিলাম, সেখান থেকে এই উচ্ছ্বাস দেখেছি। আশা করি, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলবে। তবে আমরা এখনো কেবল সেমিফাইনালে উঠেছি। অবশ্যই এটি দারুণ অর্জন। কিন্তু আমি যখন বলছি, আমরা এখনো শুধু সেমিফাইনালে, তার কারণ আমরা শেষ পর্যন্ত যেতে চাই।" ​সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ স্পেন। অঁরির প্রশংসা পাওয়া ফ্রান্সের আক্রমণের ধার এবং বল হারানোর পর দ্রুত রক্ষণে ফেরার শৃঙ্খলা স্পেনের বিপক্ষে তাদের সাফল্যের বড় অস্ত্র হতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।