বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার লড়াইকে ঘিরে এখন ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে প্রবল উত্তেজনা। এই ম্যাচের বড় আকর্ষণ দুই দলের দুই প্রাণভোমরা হ্যারি কেইন ও আরলিং হালান্ড। তবে নিজেদের মধ্যকার তুলনাকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তিনি মনে করেন, তারা দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের স্ট্রাইকার। নেটাভিসেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেইন বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তার জন্য অসম্ভব। কারণ, যদিও তারা দুজনেই স্ট্রাইকার হিসেবে পরিচিত, কিন্তু তাদের ভূমিকা সম্পূর্ণ আলাদা। কেইন আরও বলেন, আরলিং হালান্ড অসাধারণ। তার গোল করার পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য। শারীরিকভাবে সে যেন একটি যন্ত্র, এক কথায় দানব। তার গোল করার দক্ষতা সর্বোচ্চ পর্যায়ের। নিজের খেলার ধরন সম্পর্কে কেইন বলেন, আমিও গোল করি, তবে আমি বলের সংস্পর্শে বেশি থাকতে পছন্দ করি। আমি খেলায় বেশি সম্পৃক্ত থাকতে চাই এবং সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় করতে ভালোবাসি। তবে আমি প্রয়োজনে খাঁটি নাম্বার নাইন হিসেবেও খেলতে পারি। তাই আমি মনে করি না আমাদের মধ্যে তুলনা করা উচিত। গোল্ডেন বুট নয়, কেইনের প্রধান লক্ষ্য ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানো। তিনি বলেন, সব স্ট্রাইকার যেভাবে গোল করছে, তাতে এটি দারুণ একটি বিশ্বকাপ হয়ে উঠেছে। আমার প্রধান লক্ষ্য গোল্ডেন বুট নয়, ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানো। তবে আমি জানি দলকে সফল করতে আমার কাজ হলো গোল করা। এদিকে ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ নরওয়ের হালান্ডের জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডের লিডস শহরে, ২০০০ সালের ২১ জুলাই। তখন তার বাবা আলফি হালান্ড ইংলিশ ক্লাব লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলতেন। বাবার ক্যারিয়ার চোটের কারণে শেষ হয়ে গেলে পুরো পরিবার নরওয়েতে ফিরে যায়। সেখান থেকেই হালান্ডের ফুটবলের হাতেখড়ি হয়। নরওয়েজিয়ান বাবা-মায়ের সন্তান হওয়ার সুবাদে তার সামনে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে দুই দেশের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও তিনি নরওয়েকেই বেছে নেন। হালান্ড ২০২২ সালে গোল ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমি ইংল্যান্ডে সাড়ে তিন থেকে চার বছর ছিলাম, কিন্তু নরওয়েতেই দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি। তাই নরওয়েকে বেছে নেওয়া আমার জন্য খুবই স্বাভাবিক ছিল। বাবা যদি আরও অনেক বছর ইংল্যান্ডে খেলতেন, তাহলে হয়তো আমি ইংলিশ হয়ে উঠতাম। কিন্তু আমি নরওয়েজিয়ান, আর সেটা নিয়ে আমি গর্বিত। ২০১৯ সালে ১৯ বছর বয়সে নরওয়ের জার্সিতে অভিষেক হওয়া হালান্ড দেশটির ২৮ বছরের বিশ্বকাপের খরা কাটিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন। বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের মায়ের পারিবারিক নাম ‘ব্রাউট’ যুক্ত করে ‘ব্রাউট হালান্ড’ নাম ব্যবহার করেন, যা নরওয়ের একটি ঐতিহ্য। চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোলসহ এখন পর্যন্ত হালান্ডের সংগ্রহ সাত গোল। কোয়ার্টার ফাইনালে এই দুই স্ট্রাইকারের লড়াই দেখার অপেক্ষায় এখন সারা বিশ্বের ফুটবল ভক্তরা।
রাজনীতি
বিশ্বকাপে মুখোমুখি হালান্ড-কেইন

শেয়ার করুন







