ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বিশ্বকাপে নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন ফ্রান্সের মিডফিল্ডার মাইকেল অলিসে। ইংলিশদের বিপক্ষে আরও দুটি অ্যাসিস্ট করে এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭টি, যা ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের গড়া ৬ অ্যাসিস্টের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্বকাপে ১৯৬৬ সালের পর থেকে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান সংরক্ষণের ইতিহাসে কোনো ফুটবলার এক আসরে এত বেশি অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। ফলে প্রায় ৫৬ বছর পর নতুন রেকর্ডের মালিক হলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা।
মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপের দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করেন অলিসে। প্রথমে খেলার ৪৮তম মিনিটে দুর্দান্ত থ্রু পাসে এমবাপেকে গোলের সুযোগ করে দেন তিনি। এরপর ৬৬ মিনিটে চমৎকার এক ফ্লিক পাসে আবারও এমবাপেকে গোলের সামনে একা পেয়ে যেতে সাহায্য করেন।
এই দুই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭-এ।
পরিসংখ্যান সংস্থা অপটার তথ্য অনুযায়ী, এক বিশ্বকাপে একই সতীর্থকে সবচেয়ে বেশি গোল করানোর রেকর্ডও গড়েছেন অলিসে। এমবাপের পাঁচটি গোলেই সরাসরি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন নজির।
আরও একটি কারণে অলিসের এই কীর্তি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার সাতটি অ্যাসিস্টের সবকটিই এসেছে ওপেন প্লে বা চলমান খেলা থেকে। অর্থাৎ কোনো কর্নার, ফ্রি-কিক বা সেট-পিস থেকে নয়। ১৯৬৬ সালের পরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বিশ্বকাপে ওপেন প্লে থেকে এতগুলো অ্যাসিস্ট আর কোনো ফুটবলার করতে পারেননি।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগেই অ্যাসিস্ট তালিকার শীর্ষে ছিলেন অলিসে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তার সৃজনশীল ফুটবলই ছিল ফ্রান্সের আক্রমণের অন্যতম বড় শক্তি। যদিও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে ফাইনালে ওঠা হয়নি দিদিয়ের দেশমের দলের, তবুও অলিসের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল অনন্য।
এই রেকর্ড গড়ার পথে তিনি পিছনে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও। ফাইনালের আগে মেসির অ্যাসিস্ট ছিল চারটি। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে সেই সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও অলিসের সাত অ্যাসিস্টের রেকর্ড আর স্পর্শ করা সম্ভব নয়।
ফ্রান্স তৃতীয় হতে না পারলেও বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখলেন মাইকেল অলিসে। পেলের ৫৬ বছর ধরে অক্ষত থাকা রেকর্ড ভেঙে তিনি এখন এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের একক মালিক।
আইএইচএস/








