বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে পরিসংখ্যান আর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা ফুটবল দুনিয়ায় নতুন কিছু নয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সামনে এসেছে এক অদ্ভুত পরিসংখ্যান, যেটিকে অনেকেই বলছেন ‘ইংলিশ অভিশাপ’।
২০১৮ সাল থেকে যে দল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে, শেষ পর্যন্ত সেই দলই ফাইনালে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে। এবার প্রশ্ন- সেমিফাইনালে একই ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারানো আর্জেন্টিনা কি সেই অভিশাপের শিকার হবে, নাকি ইতিহাস বদলে দেবে?
এই অদ্ভুত ধারার শুরু ২০১৮ বিশ্বকাপে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে ক্রোয়েশিয়া; কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লুকা মদ্রিচদের ৪-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স।
চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপেও যেন একই গল্পের পুনরাবৃত্তি ঘটে। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারায় ফ্রান্স। তবে ফাইনালে গিয়ে তারা টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়। এমবাপের হ্যাটট্রিকও সেদিন ফ্রান্সকে শিরোপা এনে দিতে পারেনি।
২০২৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা আবারও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। ফলে অনেকের প্রশ্ন- ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের মতো কি এবারও ইংল্যান্ডকে হারানো দল ফাইনালে শিরোপা হারাবে? তবে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য আশার খবরও রয়েছে। কারণ এই পরিসংখ্যানের ব্যতিক্রম তৈরি করেছিল স্বয়ং আর্জেন্টিনাই।
১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত 'হ্যান্ড অব গড' এবং 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি'র ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আলবিসেলেস্তেরা।
একই কীর্তি গড়েছিল ব্রাজিলও। ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর ফাইনালে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে পঞ্চম শিরোপা জেতে সেলেসাওরা। সেদিন রোনালদোর জোড়া গোলেই বিশ্বকাপ ওঠে ব্রাজিলের হাতে।
তাই ২০২৬ সালের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনার সামনে দুই ইতিহাস। একদিকে ২০১৮ ও ২০২২-এর তথাকথিত ‘ইংলিশ অভিশাপ’, অন্যদিকে ১৯৮৬ সালের গৌরবময় স্মৃতি। এখন দেখার বিষয়, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা অভিশাপের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, নাকি নিজেদের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নতুন অধ্যায় রচনা করে।
আরআর/আইএইচএস/








