আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার আনন্দের মাঝেই দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লিওনেল মেসির একটি মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরার পর এবার তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইর সরকার। তবে মেসিকে আক্রমণ না করে, বর্তমান সরকার এর দায় চাপিয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট নেস্তর কির্চনার ও ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেস দে কির্চনারের প্রশাসনের ওপর।
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর টিওয়াইসি স্পোর্টস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘মানুষকে এই আনন্দ দিতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। আমরা জানি, বিশ্বকাপ আমাদের দেশের মানুষের কাছে বিশেষ কিছু। এই আনন্দের মাধ্যমে মানুষ কিছু সময়ের জন্য হলেও সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে থাকতে পারে। অনেক মানুষ আছেন যারা কষ্টে আছেন, যাদের কাজ নেই, যাদের মাসের শেষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের জীবনে আমরা সবসময় এমন বাস্তবতাই দেখেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পেরে এবং মানুষকে এই আনন্দ দিতে পেরে আমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি। গত চার বছর ধরে আমরা বিশ্বের সেরা দল এবং আবারও প্রমাণ করেছি, আমাদের অর্জন মাঠের পারফরম্যান্সের ফল। কেউ আমাদের কিছু উপহার দেয়নি।’
মেসির এই বক্তব্য ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে এবং সরকারের সমালোচকেরা এটিকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।
এর জবাবে মিলেই সরকারের অফিস অব অফিসিয়াল রেসপন্স এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, ‘ইতিহাসের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি বলেছেন, দেশে এমন মানুষ আছেন যারা কঠিন সময় পার করছেন। এটি সম্পূর্ণ সত্য।’
তবে সরকার দাবি করে, এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান প্রশাসন নয়, বরং দীর্ঘদিনের কির্চনার শাসনই দায়ী। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কির্চনারপন্থী দুই দশকের অবনতির প্রভাব ২৪ মাসে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।’
মিলেই সরকার আরও দাবি করে, গত দুই বছরে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার করা হয়েছে এবং দেশের পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘দুই বছর আগে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৬০ শতাংশ, চরম দারিদ্র্য ছিল ২০ শতাংশ, বার্ষিক মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছিল ১৫ হাজার শতাংশে, মজুরি ছিল অত্যন্ত কম এবং মুদ্রার মূল্য প্রতিদিন কমছিল। এখন পরিস্থিতি অনেক ভালো হলেও সামনে এখনও দীর্ঘ পথ বাকি। কেউ কখনও বলেনি যে এই পথ সহজ হবে। কিন্তু এই কঠিন পথই আর্জেন্টিনাকে আবারও শক্তিশালী করে তুলবে।’
মেসির মন্তব্য এবং সরকারের এই প্রতিক্রিয়ার পর বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও মেসি কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেননি, বরং সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা উল্লেখ করেছিলেন, তার বক্তব্যকে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
আরআর/আইএইচএস/








