২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করে স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন ফেরান তোরেস। সেই এক গোলেই তিনি স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে নিয়েছেন। তবে মাঠের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সংগ্রাম, মানসিক লড়াই এবং কঠিন বাস্তবতার গল্প।

২০০০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ার ছোট্ট শহর ফোইওসে জন্ম নেওয়া ফেরান খুব অল্প বয়সেই ভ্যালেন্সিয়ার একাডেমিতে যোগ দেন। কিন্তু মাত্র ১২ বছর বয়সে তার জীবনে বড় ধাক্কা আসে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। পরে অনুশীলনের সুবিধার জন্য তিনি ভ্যালেন্সিয়ার আবাসিক একাডেমিতে থাকতে শুরু করেন। প্রতি সপ্তাহে পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়তেন তিনি।

এই কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তার বড় বোন আরান্তসা। ভাই-বোন দুজনের শরীরেই রয়েছে একই ট্যাটু, 'আমি ডুবে যেতে অস্বীকার করি।' এই বাক্যটিই জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোতে ফেরানের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

বিশ্ব ফুটবলের তারকা হয়ে ওঠার পরও নতুন এক লড়াইয়ের মুখোমুখি হন তিনি। কাতার বিশ্বকাপের পর ফেরান স্বীকার করেন যে তিনি বিষণ্নতায় (ডিপ্রেশনে) ভুগছিলেন। একসময় নিজেকে 'অতল গহ্বরে; পড়ে যাওয়া মানুষ বলে বর্ণনা করেছিলেন। এরপর নিয়মিত থেরাপি নিয়ে ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠেন।

পরে তিনি বলেন, 'আগে শুধু গোল করার কথাই ভাবতাম। এখন আমি খেলাটা উপভোগ করি, আর তখন সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই আসে।'

ব্যক্তিগত জীবনেও আলোচনায় ছিলেন ফেরান। প্রথমে মডেল সিন্তিয়া রোলদান এবং পরে স্পেনের কোচ লুইস এনরিকের মেয়ে সিরা মার্তিনেজের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে গণমাধ্যমের আড়ালেই রেখেছেন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড।

জীবনের নানা প্রতিকূলতা, পারিবারিক সংকট এবং মানসিক বিষণ্নতা কাটিয়ে ওঠার পর ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে ফেরান তোরেস প্রমাণ করেছেন—সংগ্রাম শেষে সাফল্য সত্যিই সবচেয়ে সুন্দর।

আরআর/এসকেডি/এএসএম