রাষ্ট্রীয় মালিকানার রূপালী ব্যাংকে ২০১৪ সালে নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র অফিসার, অফিসারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৮০১ কর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের প্রত্যেকের এমসিকিউ, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার মূল্যায়ন খাতাসহ অন্যান্য রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকের এমডিকে চিঠি দিয়ে এসব তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, সম্প্রতি ব্যাংকের এমডিকে চিঠি দিয়ে এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর আগে অভিযোগের অনুসন্ধানের জন্য দুই সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে দুদক। দলটির টিম লিডার হিসাবে রয়েছেন সহকারী পরিচালক (ব্যাংক) মোহাম্মদ আজগর হোসেন। সদস্য হিসাবে আছেন উপসহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লা।

দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, ভুয়া বা জাল সনদের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো প্রতিবেদনে উঠে এলে সেই তথ্য দিতে হবে। ২০১৪ সালে এ নিয়োগের সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান ও পরিচালক হিসাবে দায়িত্বপালনকারী প্রত্যেকের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট নম্বর, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা চাওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, প্রতিটি ধাপে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের কপি ও নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের তালিকা দিতে হবে। নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ ও গৃহনির্মাণ ঋণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে গঠিত দুই সদস্যের টিম এসব তথ্য যাচাই করে ব্যবস্থা নেবে।

দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসাবে ব্যাংকের ২০১৪ সালে সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে প্রিন্সিপাল অফিসার পদে উন্নীত ১০ জন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গত ৫ ও ৬ জুলাই দুই দফায় তাদের হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের নির্দেশ দেয় অনুসন্ধান টিম। রূপালী ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও-কে পাঠানো এক চিঠিতে এই কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন এম ফরিদ উদ্দিন। ব্যাংকটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ নিয়োগ দেওয়া হয় ওই ছয় বছরে।