খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মহামুনি এলাকায় তালতলা-মলঙ্গীপাড়া সড়কে মলঙ্গীপাড়া ছড়ার ওপর ৮১ লাখ ২১ হাজার ১৮৬ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু চালুর মাস না পেরুতেই ঝুঁকিতে পড়েছে। চলমান ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি খরস্রোতে সেতুর একটি গাইড ওয়াল ভেঙে গেছে এবং সংযোগ সড়কের উভয় পাশের মাটি ও ইট সরে পড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস সূত্র ও সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
এমএস এবি কনস্ট্রাকশন খাগড়াছড়ি সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। কাজ তদারকিতে ছিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস। গত ৩০ জুন সেতুটি জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কাজে অনিয়ম বা ত্রুটি ছিল না। নতুন মাটি হওয়ার কারণে এবং পাহাড়ি খরস্রোতে মাটি সরে চাপ দেওয়ায় গাইড ওয়াল ওজন বা ভর নিতে পারেনি। যেহেতু ঠিকাদারের জামানত রয়েছে তাই গাইড ওয়ালটি আবারও করার পাশাপাশি সংযোগ সড়ক মেরামত করার সুযোগ রয়েছে।’
টানা ও ভারী বৃষ্টিতে মানিকছড়ি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা সদর-বাটনাতলী ইউনিয়ন সড়কের পান্নাবিল এলাকায় পাকা সড়কের একাংশ এবং পান্নাবিল মন্দির সড়কের বিশাল অংশ ভেঙে যাওয়ায় উভয় দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া শুক্রবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের পাশাপাশি দুর্ভোগের শিকার মানুষের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। কর্মহীন পরিবারে শুকনো খাবার বিতরণসহ ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে অস্থায়ী এবং স্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’








