যত দিন যাচ্ছে, ততই জমে উঠছে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ। গ্রুপপর্বেই একাধিক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, নজরকাড়া গোল ও রেকর্ডের সাক্ষী হয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। গ্রুপপর্বে দাপট দেখিয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছিল আফ্রিকার নয়টি দেশ। কিন্তু দারুণ লড়াই করেও শেষ মুহূর্তে ছিটকে গেছে আফ্রিকার আইভরি কোস্ট, সেনেগাল এবং ডিআর কঙ্গো। এতে চর্চায় উঠে এসেছে অন্য একটি বিষয়। আইভরি কোস্ট ২-১ গোলে হেরেছে নরওয়ের কাছে। ইংল্যান্ড একই ব্যবধানে হারিয়েছে ডিআর কঙ্গোকে। আর বেলজিয়ামের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে সেনেগাল। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, তিনটি ম্যাচেই মোড় ঘুরেছে একই সময়ে-৮৬ মিনিটে। অনেকেই এটিকে ‘৮৬ মিনিটের অভিশাপ’ বলছেন। তিনটি ম্যাচেই হেরে যাওয়া দল হয় এগিয়ে ছিল বা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল; কিন্তু ৮৬ মিনিটেই পালটে যায় ম্যাচের ছবি।

আইভরি কোস্টের হার : শেষ ৩২-এর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে নেমেছিল আইভরি কোস্ট। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল ১-১। ঠিক ৮৬ মিনিটে গোল করে নরওয়েকে লিড এনে দেন আর্লিং হালান্ড। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলেই ম্যাচ জেতে নরওয়ে।

এগিয়ে থেকেও কঙ্গোর বিদায় : ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ লড়াই করছিল ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের সাত মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। ৭৫ মিনিটে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান হ্যারি কেইন। এর পরে ৮৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। সেই ফলই শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে। অর্থাৎ ম্যাচের মোড় ঘোরে ৮৬ মিনিটেই।

সেনেগালের স্বপ্নভঙ্গ : সবচেয়ে নাটকীয় ম্যাচ ছিল সেনেগাল বনাম বেলজিয়াম। নির্ধারিত সময় শেষের চার মিনিট আগেও ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। মনে হচ্ছিল, তারাই শেষ ১৬-তে জায়গা করে নেবে। কিন্তু ৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকু গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ৮৯ মিনিটে ইউরি টিলেমান্স গোল করে ম্যাচ অতিরিক্ত সময় নিয়ে যান। সেখানে শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে পেনালটি থেকে জয়সূচক গোল করেন টিলেমান্স। ৩-২ গোলে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।