১৭ অক্টোবর, ২০২৩। তারপর ২৫ জুন, ২০২৬। মাঝে কেটে গেছে ৯৮১ দিন। দীর্ঘ অপেক্ষা, চোট-আঘাত, বিতর্ক, সমালোচনা-সবই পেরিয়েছেন। তবে স্বপ্ন দেখা থেকে পিছু হটেননি। তাই প্রায় আড়াই বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমে চোখের জলে ভাসলেন নেইমার। আবেগে ভেসে গেছেন। শুধু তিনিই নন। ৩৪ বছর বয়সি এই ফুটবলার মাঠে নামার সময় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে দর্শকরা। অপেক্ষা ফুরাল তাদেরও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে বদলি হিসাবে মাঠে নামেন নেইমার। যখন ওয়ার্ম-আপ করছিলেন, দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। সেই ভালোবাসা ও সম্মান হৃদয় ছুঁয়ে যায় নেইমারের। তাই মাঠে পা রাখার সময় তাকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে দেখা যায়। মাঠে ছিলেন প্রায় ১৮-১৯ মিনিট। বিশেষ কিছু না করলেও যখনই পায়ে বল পেয়েছেন, টাচ দিয়েছেন বা থ্রু পাস বাড়িয়েছেন, গলা ফাটিয়েছেন সমর্থকরা। এতদিন পর দেশের জার্সি পরা নেইমারও উপভোগ করেছেন।
শেষ বাঁশি বাজার পর ক্যামেরায় ধরা পড়ে আরও এক আবেগঘন দৃশ্য। চোখে জল নিয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন নেইমার। দুই হাতে চোখ মুছে কান্না ঢাকার চেষ্টা করছিলেন। চোট, ব্যর্থতা এবং পুনর্বাসনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে মাঠে ফেরার স্মৃতি একসঙ্গে ভিড় করেছিল তার মনে। কিছুক্ষণ পর সাইডলাইনে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ায় হাসি ফেরে নেইমারের মুখে। তাদের জড়িয়ে ধরে আবেগঘন রাতের ইতি টানেন ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক।
৯৮১ দিন পর মাঠে ফিরে পেলের রেকর্ড ছুঁয়েছেন নেইমার। ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপে নামলেন তিনি। এর আগে চারটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে নেমেছিলেন পেলে (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০)। সেই রেকর্ড স্পর্শ করলেন নেইমার। ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপে সেলেসাওদের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন তিনি।








