দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প’ থেকে আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

আজ রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষে বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপে পৌঁছেছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি বর্তমানে চূড়ান্ত “কমিশনিং ও স্টার্ট-আপ” পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার ঠিক পূর্ববর্তী এই ধাপটি অত্যন্ত জটিল এবং সংবেদনশীল।’

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, পারমাণবিক চুল্লি থেকে নিরাপদ ও সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই কমিশনিং প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হয়। সব ধরনের কারিগরি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই মূলত জাতীয় গ্রিডে এই বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হবে।

চলতি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ এই কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা প্রকাশ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।’

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হওয়ার মাধ্যমে দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে। বিশেষ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘সবুজ জ্বালানি’ (ক্লিন এনার্জি) ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পে দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে দীর্ঘ মেয়াদে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কয়লা ও গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার দেশের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে সহায়ক হবে।