দেশের সাধারণ বিমা খাতের কোম্পানি দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ২০২৫ সালে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সীমা অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্দেশ লঙ্ঘন করেছে দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণে এমনটিই উঠে এসেছে।

দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি অনিয়ম ও ঝুঁকির বিষয় তুলে ধরেছেন নিরীক্ষক। এর মধ্যে দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের বিমা দাবি নিষ্পত্তিতে অনিয়ম, ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) কর্মীদের মধ্যে বিতরণ না করা। সেই সঙ্গে সাধারণ বিমার নিকট পাওয়া ৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আদায় অনিশ্চয়তা রয়েছে। যা ভবিষ্যতে কোম্পানির সম্পদ ও নগদ প্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষক।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানিটি ২০২৫ সালে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্ধারিত নন-লাইফ বিমা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা অনুসরণ করেনি। এর ফলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ধারিত সীমার তুলনায় ৫ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার ৯৭০ টাকা বেশি হয়েছে।

এ সম্পর্কে কোম্পনির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ কর্মকার রাইজিংবিডিকে বলেন, “নন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা অগ্নি, নৌ ও অন্যান্য বিমার ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের ওপর শতকরা হার অনুযায়ী হিসাব করা হয়। বিমা আইনে এ সম্পর্কে স্পষ্ট বলা আছে। তবে আমরা এবার বেশি ব্যয় করেছি। আগামীতে ব্যয় কম করার চেষ্টা করবে দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।”

এদিকে, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে সাধারণ বিমা করপোরেশনের (এসবিসি) কাছে পাওনা হিসেবে ৩৫ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ১৬০ টাকা দেখানো হয়েছে। এই অর্থ কয়েক বছর ধরে আদায় হচ্ছে না। এর বিপরীতে কোনো নিশ্চয়তা বা অর্থ পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সূচিও কোম্পানির পক্ষ থেকে নিরীক্ষকের কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি। এই অর্থ আদায়ের সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়েছে, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের কিছু বিমা দাবি বিমা আইন, ২০১০ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়নি। আইন অনুযায়ী সার্ভে রিপোর্ট জমা দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে দাবি পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি।

এছাড়া ২০২৫ সালের জন্য শ্রমিকদের ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) এর প্রয়োজনীয় সংস্থান রাখলেও তা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী এখনো বিতরণ করা হয়নি। এ কারণে ভবিষ্যতে জরিমানা বা অতিরিক্ত দায় তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন নিরীক্ষক।

কোম্পনির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ কর্মকার রাইজিংবিডিকে বলেন, “দেশে জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড গঠন করেছে। কিন্তু এই ফান্ড থেকে অর্থ কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি।” এটি নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ২০২১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। কোম্পানিটি ‘বি’ ক্যাটারিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা। কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি।