ইরানে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ এবং বিদেশভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে কেরমানশাহ সেন্ট্রাল কারাগারে মোহিউদ্দিন আবদুল্লাহি ও হোসেইন পালানিকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেংগাও জানিয়েছে, ২০১৮ সালে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা তাদের গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহ বা ‘বাঘি’ অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ইরানের বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যম মিজান নিউজ এজেন্সিও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি আইএস-সংশ্লিষ্ট একটি সেলের সদস্য ছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল ইরাক ও সিরিয়ায় সংগঠনটির পতনের পর পুনরায় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় তারা সদস্য সংগ্রহ ও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে ইরানি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হন।
তবে হেংগাও এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবদোররহমান বোরুমান্দ সেন্টারের দাবি, বিচারপ্রক্রিয়াটি ছিল অস্বচ্ছ। অভিযুক্তদের আইনজীবীর সহায়তা, মামলার নথি কিংবা স্বাধীন বিচার পর্যবেক্ষণের কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, ইরানে মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত মামলাগুলোতে আন্তর্জাতিক বিচারমান লঙ্ঘিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়।
অসলোভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৩৭০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, গত এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতির পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার আরও বেড়েছে। শুধু জুন মাসেই অন্তত ১০১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, চলতি বছরে আইএস-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে অধিকাংশ মৃত্যুদণ্ডই হত্যা ও মাদক-সংক্রান্ত মামলায় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বেড়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে, ইরান সরকার ভিন্নমত দমনে মৃত্যুদণ্ডকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে ইরান সরকার বরাবরের মতোই দাবি করছে, সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও গুরুতর অপরাধ দমনে দেশটির আইন অনুযায়ী এসব শাস্তি কার্যকর করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ যে কোনো আলোচনায় মানবাধিকার ও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে।








