রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের কাঁটাবনে আল-বারাকা টাওয়ার নামের একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে টাওয়ারের ১২ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন সেখান থেকে উপরের তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ১২ তলায় আইনজীবীদের চেম্বার রয়েছে। আগুনে চেম্বারগুলো পুড়ে যায়। নিহত দুজন দুই চেম্বারের সহকারী ছিলেন।

একজনের নাম আব্দুস সালাম (২০)। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানের সহকারী (ক্লার্ক) ছিলেন। তার বাড়ি বগুড়ার কাহালু উপজেলার বড় ভাদাহার গ্রামে। অপরজন জনি (২৪) সাবেক উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে ব্যারিস্টার মোয়াজের ক্লার্ক ছিলেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বাবুন্দিয়া গ্রামে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত ১টা ৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে আরও পাঁচটি ইউনিট পাঠানো হয়। মোট ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৩টা ৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ডাম্পিং কার্যক্রম চালিয়ে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। দুজন আগুনের কারণে বের হতে পারেননি। তারা অফিসের একটি টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সম্ভবত ধোঁয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (ঢাকা) কাজী নজমুজ্জামান জানান, ঘটনার পেছনে গ্যাসের চুলা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, গভীর রাতে হঠাৎ ভবনের উপরের দিক থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপর শুরু হয় চিৎকার, হুড়োহুড়ি ও ছোটাছুটি। অনেকেই ভবন থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় নিয়েছে। উদ্ধার কাজেও নানা ধরনের জটিলতা ছিল।

ভবনের গার্ড মো. শরীফ জানান, আগুন লাগলে বের হতে না পেরে জনি ও সালাম বাঁচার জন্য বাথরুমে আশ্রয় নেন। সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহিন জানান, দুটি লাশ বাথরুম থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।