ঢাকার তুরাগ নদ থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৪ ও ২৫ জুন আশুলিয়া থানাধীন এলাকা থেকে মো. সুমন (১৭), দারুস সালাম থানাধীন এলাকা থেকে আরিফ হাসান রাকিব ও রনি মোল্লার লাশ উদ্ধার করা হয়। এদিকে লাশ উদ্ধার কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ফেসবুক থেকে প্রচার করা হয়, তুরাগ থানা এলাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে বিএনপি নেতা-কর্মী ও পুলিশের হামলার পর ৭ নেতা-কর্মী নিখোঁজ এবং ৩-৪ জনের লাশ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে।
জানা গেছে, তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন ২২ জুন থেকে নিখোঁজ ছিল। পরে ২৫ জুন রাতে আশুলিয়া বাজারের কাছে তুরাগ নদের পাশের চক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিচয় শনাক্তের পর লাশ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন ২২ জুন পিকনিকের কথা বলে সুমন বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
একই এলাকার আরিফ হাসান রাকিবের লাশ ২৪ জুন তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে দারুস সালাম থানার ওসি মো. দুলাল হোসেন বলেন, নৌ পুলিশ তুরাগ নদ থেকে বুধবার আরিফ হাসান রাকিবের লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনার নিহতের চাচা মো. আরশাদুল ইসলাম একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। আরশাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আরিফ ২২ জুন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বিকালে মায়ের সঙ্গে ফোনে তার কথা হয়। এর পর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। পরে তার লাশ পায় পুলিশ।
আমিনবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বলেন, আরিফের লাশ ২৪ জুন সকালে উদ্ধার করা হয়। ওইদিন দুপুরে দিয়াবাড়ি ঘাটে কয়েকজন একসঙ্গে গোসলের সময় রনি মোল্লা নামের একজন ডুবে যায়। অন্যরা ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর তাকে মৃত অবস্থায় পাড়ে তোলেন। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। রনির বাবা কফিল উদ্দিন মোল্লা বলেন, দিয়াবাড়ির একটি হোটেলে রনি কাজ করত। ২৪ জুন সকালে রনি হোটেল থেকে বের হয়েছিল। কফিল উদ্দিন বলেন, রনির মানসিক একটু সমস্যা ছিল। যখন মন চাইত এদিক-সেদিক চলে যেত।
এদিকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, আ.লীগের নেতাকর্মীরা নৌকাযোগে আশুলিয়ার রুস্তমপুর ঘাট থেকে আশুলিয়া বাজার ঘাটে মিছিলের উদ্দেশে আসে। ঘাটে পৌঁছে নৌকা থেকে নামার চেষ্টা করলে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া করে। ঘটনাস্থল থেকে মোট সাতজনকে আটক করে। অন্যরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে দুজন পানিতে তলিয়ে যান।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা সাতজনকে গ্রেফতার করেছি যারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তবে নৌকা থেকে লাফ দিয়ে কেউ পড়েছে কিনা এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
এদিকে ‘তুরাগ নদে ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসছে’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। একটি মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




