আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। আদালতের ৮২ সদস্য রাষ্ট্রের ভোটে প্রধান প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে করিম খানকে। এই ভোটাভুটিতে ১৫টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। করিম খানের পক্ষে অবস্থান নেয় মাত্র ১৩টি দেশ।
করিম খানের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তিনি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন। ভোটাভুটির সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেননি।
এর আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তার আইনজীবীদের মতে, এই কারণে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সঠিক সুযোগ বা যথাযথ প্রক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন
ইসরায়েলি চাপের মুখেও জয়ী / যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন আইসিসির চিফ প্রসিকিউটর
ভোটের আগেই ১৪০টি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনের একটি জোট উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের মতে, রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথানত করছে আন্তর্জাতিক আদালত।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
করিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এমন এক সময়ে ওঠে যখন তিনি গাজায় যুদ্ধাপরাধ নিয়ে তদন্ত করছিলেন। ২০২৪ সালের মে মাসে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চান।
ইসরায়েল এবং তার মিত্র দেশগুলো এই তদন্ত বন্ধ করতে চাপ দিতে থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র আদালতের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন করিম খান ও অন্যান্য কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এমনকি আদালতটির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
তদন্ত চলাকালে জানা যায়, সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন করিম খানকে সরাসরি ফোন করেছিলেন। ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি না করতে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাজ্য অর্থায়ন বন্ধ করে দেবে বলেও জানানো হয়।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অসদাচরণ প্রমাণিত না হলে তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়। করিম খানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে দায়িত্ব থেকে অপসারণ আন্তর্জাতিক আদালতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, মিডল ইস্ট আই
কেএএ/








