ইরান যুদ্ধে সেনা হতাহতের তথ্য প্রকাশে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ‘লজ্জাজনক পন্থা’ অবলম্বন করছে। শনিবার গার্ডিয়ানকে এমনটাই জানিয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সিআইএ পরিচালক লিওন প্যানেটা।
প্রতিরক্ষা দপ্তর আড়াই মাস ধরে কোনো সংবাদ সম্মেলন করেনি। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনরোষের ভয়ে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেছে নেওয়া ইরান যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় গোপন করার কাজে লিপ্ত।
আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের সময় সাপ্তাহিক পেন্টাগন ব্রিফিং পরিচালনা করা প্যানেটা, মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বোমা হামলায় কতজন আহত হয়েছেন তা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হওয়ায় দপ্তরটির সমালোচনা করেছেন।
তিনি টেলিফোনে বলেছেন, “মার্কিন জনগণের কাছ থেকে তথ্য গোপন করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা এখানে চলছে এবং আমি মনে করি, যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের সকলের যে দায়িত্ব রয়েছে, তা ভাগ করে নেওয়ার ব্যাপারে এটি নানা দিক থেকে একটি লজ্জাজনক পন্থা।”
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে এবং উভয় পক্ষই প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে, যা একটি অচলাবস্থা এবং ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ পরিহার করার ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
গত শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮-তে দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে প্রায় ৪৩০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
পেন্টাগন সোমবার জানিয়েছে, ৭ জুলাই থেকে ১০০ জন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন, কিন্তু তাদের ৯৬ শতাংশই কাজে ফিরেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রথমে এই সংখ্যা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয় এবং দেরিতে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে হতাহতের বিষয়টি স্বীকার করে।
কর্মকর্তারা টাইমস-এর প্রতিবেদনটিকে ‘ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে খারিজ করে দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, যদি সেনাসদস্যদের কাজে ফেরার সম্ভাবনা থাকে, তবে আহতদের খবর প্রকাশ করা তাদের জন্য কঠোরভাবে বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু প্রশ্ন আরো তীব্র হয়, যখন টাইমস-এর আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে সেনামৃত্যুর সংখ্যা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৪ করা হয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এর জন্য ‘একটি সাময়িক তথ্য বিভ্রাট’-কে দায়ী করেন।








