আজ ৪ জুলাই, কাঁঠাল দিবস। কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরা এবং উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্য হিসেবে এর সম্ভাবনা জনপ্রিয় করার লক্ষ্যেই দিবসটি পালন করা হয়।
কিছু ফল চোখে পড়ার মতো, সুন্দর। কাঁঠালকে কেউ সুন্দর বলবেন কি না সন্দেহ! বরং অনেকেই হয়তো বলবেন—বেঢপ, কাঁটাময়, অদ্ভুত। অথচ এই অদ্ভুত চেহারার আড়ালেই লুকিয়ে আছে বিশেষ স্বাদ। কাঁঠাল যে কতটা সুস্বাদু আর স্মৃতিতে গেঁথে থাকার মতো ফল, তা ভালোবেসে না খেলে বোঝা যায় না।
রূপ, রস, গন্ধ আর স্পর্শ—সব মিলিয়ে কাঁঠালের আবেদন একেবারেই নিজস্ব। এই ফল নিয়ে মানুষের অনুভূতিও বিপরীত দুই মেরুর। হয় আপনি একে গভীরভাবে ভালোবাসবেন, নয়তো একেবারেই সহ্য করতে পারবেন না। মাঝামাঝি কোনো অবস্থান যেন নেই। যিনি কাঁঠাল ভালোবাসেন, তিনি এর জন্য প্রায় দিওয়ানা; আর যিনি ভালোবাসেন না, তার কাছে কাঁঠাল মানেই অসহ্য গন্ধ।
ওপরের কথাগুলো কাঁঠাল নিয়ে কবি শামীম আজাদের স্মৃতিকথার নির্যাস। তাঁর এই পর্যবেক্ষণ যেন কাঁঠালপ্রেমী ও কাঁঠালবিরোধী—দুই পক্ষেরই মনের কথা।
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়; এটি আমাদের খাদ্যাভ্যাস, লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীনকাল থেকেই কাঁঠাল বাংলার মানুষের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে তৈরি তরকারিকে অনেকেই ‘গরিবের মাংস’ বলেন। কারণ, এর আঁশযুক্ত গঠন অনেকটা মাংসের মতো এবং এটি পুষ্টিকরও।

অন্যদিকে পাকা কাঁঠাল তার মিষ্টি স্বাদ ও অনন্য সুবাসের জন্য পরিচিত। দেশীয় ফলগুলোর মধ্যে কাঁঠালে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি এতে আছে ফাইবার বা আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান।
কাঁঠালের ব্যবহার এখন আর শুধু ফল বা তরকারিতে সীমাবদ্ধ নেই। দিন কয়েক আগে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফল মেলায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের একটি স্টলে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি নানা ধরনের খাবার প্রদর্শন করা হয়। সেখানে ছিল কাঁঠালের বিরিয়ানি, বার্গার, কাবাব, কাটলেট, চিপস, পাকোড়া, ললিপপ, শাশলিক, পেস্ট্রি, কেক, হালুয়া, নকশিপিঠা, পাটিসাপটা, রুটি—এমন আরও নানা পদ।
জাতীয় ফলকে ঘিরে এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখিয়ে দেয়, কাঁঠালের সম্ভাবনা এখনো অনেকটাই অনাবিষ্কৃত।
উৎপাদনের দিক থেকেও কাঁঠাল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ; প্রথম ভারত। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়েছে।

কৃষিবিদ ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক মৃত্যুঞ্জয় রায়ের মতে, কাঁঠালকে জাতীয় ফল হিসেবে নির্বাচনের পেছনে একাধিক কারণ আছে। তাঁর ভাষায়, ‘বাংলাদেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি কাঁঠাল চেনেন না। এমন এলাকাও খুব কম, যেখানে কাঁঠাল জন্মায় না। সহজলভ্যতা ও জনপ্রিয়তার কারণেই এটি জাতীয় ফল। আর কাঁঠালের আদিনিবাসও এ অঞ্চল তথা ভারতীয় উপমহাদেশ। আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার সঙ্গেও কাঁঠাল গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।’
শুধু বাংলাদেশেই নয়, শ্রীলঙ্কারও জাতীয় ফল কাঁঠাল। উদ্ভিদবিদদের মতে, কাঁঠালের আদি নিবাস ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা। আজও সেখানে বুনো কাঁঠাল জন্মায়। ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ুর রাজ্যফলও কাঁঠাল।
আজ ৪ জুলাই, কাঁঠাল দিবস। কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরা এবং উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্য হিসেবে এর সম্ভাবনা জনপ্রিয় করার লক্ষ্যেই দিবসটি পালন করা হয়। ২০১৬ সালে এর প্রচলন হলেও দিবসটির সূচনা নিয়ে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না।
তবে দিবসটির মূল বার্তা স্পষ্ট—জাতীয় ফলকে নতুনভাবে চিনে নেওয়া। তাই আজ যদি সুযোগ থাকে পাকা কাঁঠালের কোয়া হাতে তুলে নিন। কিংবা রান্নাঘরে তৈরি করে ফেলুন কাঁঠালের নতুন কোনো পদ। হয়তো নতুন করে আবিষ্কার করবেন বহুদিনের চেনা এই ফলকে।
সূত্র: ডেজ অব দ্য ইয়ার ও বাংলাপিডিয়া
বিয়ে-জন্মদিনে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলেই গুনতে হবে জনপ্রতি ২৫ টাকা







