‘প্রশ্নপত্র আজকে খুবই সহজ হয়েছে। আমি আর্টসের ছাত্র। যুক্তিবিদ্যার প্রশ্ন বেশি সহজ হয়েছে। বন্ধুদের কাছে শুনলাম ওদের পদার্থবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নও ভালো হয়েছে। সবাই পরীক্ষায় লিখে খুশি। তবে সোমবার বৃষ্টি-বন্যার মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী যে অন্যায় করেছেন, তাতে আমরা ছাড় দেবো না। মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। এ দাবি আদায় করেই আমরা ফিরবো।’

কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে পূর্বঘোষিত লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে মিছিলে অংশ নিয়ে শিক্ষাভবনের সামনে অবস্থান করছেন। সেখানেই কথা হয় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে।

আরও পড়ুন

শিক্ষাভবনে তালাবদ্ধ ব্যারিকেড, সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

তার সঙ্গে থাকা ঢাকা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী একের পর এক বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি সারাদিন কীভাবে পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের টাইট দেওয়া যায়, তা নিয়ে বক্তব্য দেন। আমরা যে গত ৮ জুলাইয়ের পর থেকে বৃষ্টিতে ভিজে পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে যাচ্ছি-আসছি, অসুস্থ হচ্ছি, সেসব দিকে তার নজর নেই। উনার লক্ষ্য তাড়াতাড়ি পরীক্ষা শেষ করা। তাতে তিনি ক্রেডিট পাবেন। এমন ক্রেডিটবাজ মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আমরা আন্দোলন বন্ধ করবো না।’

মোহাম্মদপুরের একটি কলেজের শিক্ষার্থীও এসেছেন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবির এ আন্দোলনে। হাতে প্রবেশপত্র ও কয়েকটি কলম সংবলিত প্লাস্টিকের ফাইল। গলায় আইডি কার্ড। বেশ ক্ষুব্ধ তিনি। ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা ইন্টারমিডিয়েট পড়ছি দুই বছর ধরে। উনি আসলেন তিনমাস আগে। এসেই একের পর এক নিয়ম করছেন। উনি শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনবেন ভালো কথা, সেটা আগামী বছর থেকে করেন, তা করবেন না। উনার মুখের বাণীই যেন নিয়ম। এমন স্বৈরাচার শিক্ষামন্ত্রী দিয়ে দেশের শিক্ষার উন্নয়ন হবে না। তাকে সরে যেতেই হবে।’

এদিকে, মঙ্গলবারের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ তোলেন অনেক ছাত্র। তাদের দাবি, পুলিশ অনেক জায়গায় ছাত্রদের পিটিয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত। তারপরও কেন শিক্ষামন্ত্রী আজকের পরীক্ষা স্থগিত করেননি, তা নিয়েই প্রশ্ন ও ক্ষোভ তাদের।

আরও পড়ুন

সংসদে শিক্ষামন্ত্রী / দুর্যোগে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের ফের সুযোগ

জানা যায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগির সঙ্গে তুলনা করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকাসহ দেশের অন্তত ৩০ জেলায় রাজপথে নামেন পরীক্ষার্থীরা। তাদের বেশ কিছু দাবি পূরণ হলেও আজকের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, আজ পরীক্ষা শেষে বেলা ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মসূচি ‍শুরু করেন। তারা প্রথমে সায়েন্সল্যাব মোড়ে জড়ো হন। সেখান শিক্ষাভবন ও সচিবালয়ের দিকে রওনা দেন। তবে শিক্ষাভবনের সামনে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষার্থীদের আটকে দিয়েছে পুলিশ। সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।

এএএইচ/এমএএইচ/