সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৩২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টার আগের ওই সময়ের এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ শনিবারও ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু প্রবলভাবে সক্রিয় থাকায় আগামী পাঁচ দিনই দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে কাল রোববারের পর থেকে বৃষ্টির এই প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

শুক্রবার সকাল ১০টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে সারা দেশের বিভিন্ন স্টেশনের বৃষ্টিপাতের তথ্য দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওই ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মূলত শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত পরিমাপ করা হয়। ওই সময়ে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ২১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। গত পাঁচ দিনে এই বিভাগে ১ হাজার মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটা এলার্মিং।

শুক্রবার সকাল ৯টার পরের ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিরাজমান সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে লঘুচাপ আকারে মধ্য উত্তরপ্রদেশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজমান আছে।

শনিবারের পূর্বভাবে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এরপর রোব, সোম ও মঙ্গলবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।

পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে : সারা দেশে টানা ভারি বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের অন্তত পাঁচটি প্রধান নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিশেষ বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিপৎসীমার উপর প্রবাহিত নদ-নদীগুলো হলো সাঙ্গুনদ, মাতামুহুরী নদী, মনু নদ, কুশিয়ারা নদী ও খোয়াই নদী। তবে বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও বেশ কয়েকটি প্রধান নদীর পানি সতর্কসীমায় বা বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। যার মধ্যে রয়েছে নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের কাউনিয়া ও গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা, সিলেটের কানাইঘাট, সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদী, মৌলভীবাজারের শেরপুর পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী, নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদী ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ পয়েন্টে ছোট ফেনী নদী। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নদীসংলগ্ন নিুাঞ্চলগুলোর বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে। তবে ফেনী, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের নদীসংলগ্ন নিুাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।