অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যান্ডেমিক সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটে নিপাহ ভাইরাস ও মহামারি প্রস্তুতি নিয়ে ডিফিল (পিএইচডি) করছেন বাংলাদেশের চিকিৎসক–গবেষক ডা. জাকিউল হাসান। আইসিডিডিআরবি ও বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত তাঁর গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট ইনফেকশাস ডিজিজেস’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিপাহ গবেষণা ও উন্নয়ন রোডম্যাপ প্রক্রিয়ায় কাজ করেছেন। ২০২8 সালে আন্তর্জাতিক সংক্রামক রোগ সমিতি তাঁকে ইমার্জিং লিডার ইন ইনফেকশাস ডিজিজেস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ ছাড়া তরুণ গবেষক হিসেবে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইয়াং ইনভেস্টিগেটর অ্যাওয়ার্ড, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড ও স্বর্ণপদকসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি।

তবে জাকিউল হাসানের এই আন্তর্জাতিক গবেষণা–যাত্রার শুরু হয়েছিল যুক্তরাজ্য সরকারের চেভেনিং স্কলারশিপ দিয়ে। প্রতিবছর চেভেনিং স্কলারশিপের আবেদন শুরুর আগে অনেক শিক্ষার্থী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের প্রায় সবার প্রশ্নই এক—আমি কি যোগ্য? কোথা থেকে শুরু করব? আবেদনপত্রে কী লিখব? কীভাবে নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে উপস্থাপন করব?

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর, আবেদন প্রস্তুতির কৌশল ও চেভেনিংয়ে জাকিউল হাসানের যাত্রার গল্প তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

জার্মানিতে পড়তে কোন কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, জেনে নিন ২০২৬ সালের নিয়ম

চেভেনিং স্কলারশিপ যেভাবে বদলে দিল গবেষণা ও পেশাজীবনের পথ

কয়েক বছর আগে যদি কেউ আমাকে বলতেন যে একদিন আমি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করব, বিশ্বসেরা গবেষকদের সঙ্গে কাজ করব, কিংবা নিপাহ ভাইরাস ও মহামারি প্রস্তুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায় যুক্ত হব, তাহলে হয়তো বিশ্বাস করতাম না।

কারণ, তখন আমি আইসিডিডিআরবিতে একজন তরুণ গবেষক। গবেষণার কাজ ভালো লাগত, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ছিল, কিন্তু বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নটা যেন অনেক দূরের কিছু মনে হতো। মনে হতো, এসব স্কলারশিপ কি সত্যিই আমার মতো কারও জন্য? আমি কি পারব? কোথা থেকে শুরু করব? আবেদনই–বা করব কীভাবে? সত্যি বলতে, অনেকের মতো আমিও আবেদন করার আগেই নিজেকে বাদ দিয়ে দিতাম।

আজ ফিরে তাকিয়ে বুঝতে পারি, সবচেয়ে বড় বাধা ছিল না যোগ্যতা বা সুযোগের অভাব; সবচেয়ে বড় বাধা ছিল নিজের ওপর আস্থার ঘাটতি। তাই সবার আগে কৃতজ্ঞতা জানাই চেভেনিং স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের প্রতি। এই মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ আমার উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। টিউশন ফি, মাসিক স্টাইপেন্ড, বিমানভাড়াসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা না পেলে হয়তো আমার জীবনের অনেক স্বপ্নই অধরা থেকে যেত।

তবে চেভেনিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু অর্থায়ন নয়, এর বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক। বিশ্বের নানা দেশ থেকে মেধাবী ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নেতারা এই স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যে পড়তে আসেন। তাঁদের সঙ্গে যেমন বন্ধুত্ব ও পেশাগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তেমনি সাবেক চেভেনিং স্কলারদের বিশাল নেটওয়ার্কের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এই সম্পর্কগুলো পরবর্তী সময়ে নতুন সহযোগিতা, গবেষণা ও পেশাগত বিকাশের অসংখ্য দ্বার খুলে দেয়। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

অক্সফোর্ডে প্রথম যাওয়া

২০১৯ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ ও সেন্ট মেরিজ হাসপাতালে একটি সামার কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাই। আয়োজকেরা কোর্স ফি, আবাসন এবং বিমানভাড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। একজন তরুণ গবেষকের জন্য এটি ছিল জীবনের অন্যতম বড় সুযোগ।

দুই সপ্তাহের কোর্সের মাঝখানে একটি সপ্তাহান্ত ছিল। আমার বরাবরই বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি একধরনের কৌতূহল ছিল। তাই শনিবার চলে গেলাম কেমব্রিজ দেখতে। পরদিন রোববার গেলাম অক্সফোর্ড। ভাগ্যক্রমে সেদিন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন ডে। বিভিন্ন কলেজ, গবেষণাগার, লাইব্রেরি ও বিভাগ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। আমি সারা দিন ঘুরে ঘুরে দেখলাম।

অক্সফোর্ড আমাকে মুগ্ধ করেছিল। শুধু শত শত বছরের ঐতিহ্য নয়, গবেষণার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা, ল্যাবরেটরির মান, লাইব্রেরির বিশালতা—সবকিছুই আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।

সেদিন বিকেলে ট্রেনে লন্ডনে ফেরার সময় মনে মনে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—একবার অন্তত চেষ্টা করব। অক্সফোর্ডে আবেদন করব।

মাত্র এক সপ্তাহ বাকি

বাংলাদেশে ফিরে এসে জানতে পারলাম, চেভেনিং স্কলারশিপের আবেদন শেষ হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। আজ ভাবলে অবাক লাগে, কিন্তু তখন খুব বেশি চিন্তা করিনি। নিজের কাছে বলেছিলাম, ‘হয়তো হবে না, কিন্তু চেষ্টা না করলে জানব কীভাবে?’

সেই এক সপ্তাহের সিদ্ধান্তই পরবর্তী সময়ে আমার জীবন ও পেশাজীবনের গতিপথ বদলে দেয়।

চেভেনিং: শুধু একটি বৃত্তি নয়

চেভেনিং যুক্তরাজ্য সরকারের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৃত্তি কর্মসূচি। ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের ১৬০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের হাজারো পেশাজীবী এই বৃত্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকেও কয়েক শতাধিক পেশাজীবী এই বৃত্তি লাভ করেছেন এবং বর্তমানে তাঁরা সরকার, গবেষণা, উন্নয়ন, ব্যবসা, আইন, সাংবাদিকতা ও স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছেন।

প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে। প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু একটি বিষয় আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি—

চেভেনিং কেবল সবচেয়ে বেশি সনদধারী মানুষকে খোঁজে না; তারা খোঁজে এমন মানুষকে, যার নেতৃত্বের সম্ভাবনা আছে এবং ভবিষ্যতে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব রাখার পরিকল্পনা আছে।

চেভেনিংয়ের আবেদনপ্রক্রিয়াকে আমি খুব সহজভাবে তিনটি ধাপে ভাগ করি।

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা আরও ব্যয়বহুল হচ্ছে, ভিসাসহ যে যে ফি বাড়ছে

ধাপ ১: অনলাইন আবেদন ও প্রবন্ধ

এখানে আবেদনপত্রের পাশাপাশি নেতৃত্ব (লিডারশিপ), নেটওয়ার্ক গঠন (নেটওয়ার্কিং), যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার পরিকল্পনা (স্টাডি ইন দ্য ইউকে) এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা (ক্যারিয়ার প্ল্যান) নিয়ে চারটি প্রবন্ধ লিখতে হয়। আমার অভিজ্ঞতায়, নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটিই।

ধাপ ২: সাক্ষাৎকার

প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণদের ব্রিটিশ হাইকমিশনে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। আবেদনপত্রে যা লিখেছেন, তার বাস্তব উদাহরণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই মূল আলোচনার বিষয় হয়।

ধাপ ৩: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও চূড়ান্ত নির্বাচন

আবেদনকারীকে যুক্তরাজ্যের তিনটি মাস্টার্স কোর্স নির্বাচন করতে হয়। পরবর্তী সময়ে অন্তত একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিঃশর্ত (আনকন্ডিশনাল) অফার নিশ্চিত করতে হয়। এরপরই চূড়ান্তভাবে চেভেনিং স্কলার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পথ সম্পন্ন হয়।

আবেদন শুরুর আগেই প্রস্তুতি নিন

অনেকেই মনে করেন আবেদন শুরু হলে প্রস্তুতি নেবেন। বাস্তবে সফল আবেদনকারীরা সাধারণত কয়েক মাস আগেই প্রস্তুতি শুরু করেন।

চেভেনিংয়ের আবেদন সাধারণত আগস্ট মাসে শুরু হয়। এ বছরও আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আবেদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যাঁরা আবেদন করতে চান, তাঁদের এখন থেকেই কিছু কাজ শুরু করা উচিত

নিজের সিভি হালনাগাদ করা, উল্লেখযোগ্য অর্জনের তালিকা তৈরি করা, নেতৃত্বের উদাহরণগুলো লিখে রাখা, সম্ভাব্য রেফারিদের সঙ্গে কথা বলা, পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া, পাঁচ ও দশ বছরের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ভাবা

চারটি প্রবন্ধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

চেভেনিং আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো চারটি প্রবন্ধ। এই প্রবন্ধগুলো সাধারণত চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে লেখা হয়—লিডারশিপ, নেটওয়ার্কিং, স্টাডি ইন দ্য ইউকে, ক্যারিয়ার প্ল্যান।

আমি প্রথমে একটি কাগজ নিয়ে বসেছিলাম। নিজের জীবনের সব গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা, সাফল্য, নেতৃত্বের উদাহরণ ও অর্জনের তালিকা করলাম। এরপর সেগুলোকে আলাদা আলাদা থিমে ভাগ করলাম।

আমার কাজের অভিজ্ঞতা খুব বেশি ছিল না। তাই আমি সংখ্যার চেয়ে প্রভাব (ইমপ্যাক্ট)-এর ওপর জোর দিয়েছিলাম। আমি একটি বিষয়ে সব সময় সচেতন ছিলাম— আমি যা নই, তা বলব না। আমি যা করতে চাই না, তা লিখব না। আমি ভবিষ্যতে যা সত্যিই করতে চাই, সেটাই বলব। আমার বিশ্বাস, এই সততাই আমার আবেদনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল।

সবচেয়ে বড় ভুল

প্রতিবছর অনেক ভালো আবেদনকারী একটি সাধারণ ভুল করেন। তাঁরা প্রবন্ধকে সিভির পুনরাবৃত্তি বানিয়ে ফেলেন। মনে রাখতে হবে, নির্বাচকরা আপনার সিভি দেখবেনই। তাই প্রবন্ধে শুধু আপনি কী করেছেন তা নয়, কেন করেছেন, কী শিখেছেন এবং ভবিষ্যতে কী করতে চান—সেটি তুলে ধরতে হবে।

আজকের দিনে অনেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিয়ে আবেদনপত্র প্রস্তুত করেন। এটি খসড়া তৈরি বা সম্পাদনায় সাহায্য করতে পারে। কিন্তু আবেদনপত্র অবশ্যই নিজের ভাষায়, নিজের অভিজ্ঞতায় ও নিজের কণ্ঠে লেখা উচিত। আপনার গল্প আপনার হয়ে অন্য কেউ লিখতে পারবে না।

যে ই–মেইলটি আজও ভুলিনি

কয়েক মাস পর শর্টলিস্ট হওয়ার ই–মেইল পেলাম। আজও সেই মুহূর্তটি মনে আছে। সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে আনন্দের ই–মেইলগুলোর একটি ছিল সেটি। পরবর্তী ধাপে দুটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হয়েছিল। আমি একটি নিয়েছিলাম আমার মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকের কাছ থেকে এবং অন্যটি নিয়েছিলাম কর্মস্থলের সুপারভাইজারের কাছ থেকে। আমার অভিজ্ঞতায়, একটি একাডেমিক এবং একটি পেশাগত সুপারিশপত্রের সমন্বয় ভালো কাজ করে।

সাক্ষাৎকারে যা দেখেছি

চেভেনিং সাক্ষাৎকার নিয়ে অনেকেই ভয় পান। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। সাক্ষাৎকারটি ছিল অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। মজার বিষয় হলো, প্রবন্ধে যেসব বিষয় লিখেছিলাম, মূলত সেগুলোই ভিন্নভাবে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাই সাক্ষাৎকারের আগে নিজের প্রবন্ধগুলো আবার মনোযোগ দিয়ে পড়া জরুরি। আমি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে বাস্তব উদাহরণ দিয়েছিলাম—কোনো মুখস্থ উত্তর নয়।

স্বপ্নের দরজা খুলে যাওয়ার দিন

অবশেষে সেই বহুল প্রতীক্ষিত ই–মেইল এল। আমি চেভেনিং স্কলারশিপ পেয়েছি। একই সময় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগও পাই। অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই জনস্বাস্থ্য প্রোগ্রামে সাধারণত আবেদনকারীদের ৭ শতাংশের কম নির্বাচিত হন। তাই কয়েক মাস আগেও যা ছিল কেবল একটি স্বপ্ন, তা-ই বাস্তবে রূপ নিল। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেই দুটি স্যুটকেস ভর্তি স্বপ্ন নিয়ে অক্সফোর্ডে যাত্রা শুরু করি।

চেভেনিংয়ের পর যা বদলে গেল

অক্সফোর্ডে গিয়ে আমি শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন করিনি। আমি একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের অংশ হয়েছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও ভবিষ্যৎ নেতাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর বিভাগীয় পুরস্কার অর্জন করি। পরবর্তী সময়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে ডিফিল (পিএইচডি) করার সুযোগ পাই।

বর্তমানে আমি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং আইসিডিডিআরবির সহযোগিতায় মহামারি প্রস্তুতি, বিশেষ করে নিপাহ ভাইরাসের চিকিৎসা উন্নয়ন ও ক্লিনিক্যাল গবেষণা নিয়ে কাজ করছি।

আমার গবেষণা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট ইনফেকশাস ডিজিজেসসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিপাহ গবেষণা ও উন্নয়ন রোডম্যাপ প্রক্রিয়ায় কাজ করার সুযোগ হয়েছে। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক সংক্রামক রোগ সমিতি (আইএসআইডি) আমাকে ‘ইমার্জিং লিডার ইন ইনফেকশাস ডিজিজেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সম্প্রতি মহামারি প্রস্তুতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান (PANDAI) অর্জন করেছি। এ ছাড়া তরুণ গবেষক হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংস্থার ইয়াং ইনভেস্টিগেটর অ্যাওয়ার্ড, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড ও স্বর্ণপদকসহ একাধিক সম্মাননা অর্জনের সৌভাগ্য হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই যাত্রা আমাকে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করেছে।

অক্সফোর্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা গড়ে তোলা, নতুন গবেষণা উদ্যোগ শুরু করা এবং বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির কাজেও যুক্ত থাকতে পেরেছি

কেন চেভেনিং আলাদা

অনেক বৃত্তি আছে যা আপনাকে একটি ডিগ্রি দেবে। চেভেনিং আপনাকে দেয় একটি নেটওয়ার্ক। বিশ্বের শতাধিক দেশের হাজার হাজার চেভেনিং অ্যালামনাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ। চেভেনিং আমাকে শুধু অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ দেয়নি, বরং এমন একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের অংশ করেছে, যা আজও আমার গবেষণা ও পেশাজীবনের যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সহপাঠী, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো পরবর্তী সময়ে নতুন গবেষণা, সহযোগিতা ও পেশাগত সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে।

তাই যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করতে চান, বৈশ্বিক গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে অবদান রাখতে চান, কিংবা নিজের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চান, তাঁদের জন্য আমার একটাই পরামর্শ—আবেদন করুন। নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নির্বাচকেরা নেবেন। কিন্তু সুযোগটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।