ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে উপজেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কম্পিউটার দোকানের পরিচালক মিলনকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অনাদায়ে আরও অতিরিক্ত তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মিলনের বাড়ি পৌরসভার কুসুমদী এলাকায়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ছাড়াতে অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করেন উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক আব্দুল জলিল। বুধবার রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ওই এনসিপির নেতার কথোপকথনের অডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা ভূমি অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমান।

ছড়িয়ে পড়া অডিওতে শোনা যায়, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমানকে বলছেন, মিলন আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, তাকে একবার শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনি বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে এতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর আব্দুল জলিলকে বলতে শোনা যায়, ‘ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি।’

আব্দুল জলিল যুগান্তরকে বলেন, ?‘আমাদের দলের এক নেতার বিষয়টি জানতে পেরে এসিল্যান্ড স্যারকে ফোন করেছিলাম। পরে বিস্তারিত জানতে পেরে কোনো তদবির করিনি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলাম।’

ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা সাংগঠনিক আইন পরিপন্থি। এটা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। অফিসের বাইরে ঘোরাঘুরির একাধিক ফুটেজও রয়েছে। আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’