পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে কেক কাটা ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মেজর মৌসুমী ও নিলুফার ইয়াসমিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের পর শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহবুব আলী মুয়াদ এ আদেশ দেন।

মেজর মৌসুমী পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। নিলুফার ইয়াসমিন জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি।

মামলায় পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান মুক্তাকে এক নম্বর এবং মেজর মৌসুমীকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় মোট ১১০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সারোয়ার বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ মামলায় পরবর্তী আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম কাজল বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম গোপনে পরিচালনার অংশ হিসেবে পঞ্চগড় সদরে সাবেক এমপি নাঈমুজ্জামান মুক্তার একটি খামারবাড়িতে দলের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। সেখানে কেক কাটা, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, গত বছরের ২৩ জুন নাঈমুজ্জামান মুক্তার একটি খামারবাড়িতে দলের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। পরদিনই এর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানার এস আই মানিক একটি মামলা দায়ের করেন। আজ সোমবার ৬ সপ্তাহের জামিন শেষে মেজর মৌসুমী ও নিলুফার ইয়াসমিন জজ কোর্টে হাজির হয়ে পুনর্বার জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। মামলার প্রথম আসামি নাঈমুজ্জামান মুক্তা পলাতক।