​বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক বিধিমালা থাকলেও এর কার্যকর বাস্তবায়নে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্যের বেশির ভাগই আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে যাচ্ছে এবং শত শত মিলিয়ন ডলারের পুনরুদ্ধারযোগ্য মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে। সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীতে অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনসের (এপিসি) সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা ভয়েস আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক অ্যাডভোকেসি সভায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়। ​সভায় উপস্থাপিত ভয়েসের এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বছরে প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হলেও এর ১০ শতাংশেরও কম আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্ব্যবহার করা হয়। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ২০০ থেকে ২২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধারযোগ্য সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জরিপে অংশ নেওয়া সব প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হলেও বাস্তবে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রম খুবই সীমিত। মাত্র ২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের টেক-ব্যাক ব্যবস্থা রয়েছে এবং একই সংখ্যক প্রতিষ্ঠান বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মানদণ্ড অনুসরণ করে। গত অর্থবছরে কোনো প্রতিষ্ঠানই মেয়াদোত্তীর্ণ ইলেকট্রনিক পণ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ​ভয়েসের পক্ষে মূল্যায়নের ফলাফল উপস্থাপন করে বন্ধন দাস বলেন, "বাংলাদেশ ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো তৈরি করলেও এর বাস্তবায়ন এখনো কার্যকর হয়নি। আইনের যথাযথ প্রয়োগ, উৎপাদকদের জবাবদিহি এবং কার্যকর সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়া প্রত্যাশিত পরিবেশগত সুফল অর্জন সম্ভব নয়।" ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, "২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।" ​বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সদস্য আমিনুর রসুল বলেন, "ই-বর্জ্য শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়, এটি সম্পদ ব্যবস্থাপনারও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মূল্যও সৃষ্টি করতে পারে।" বাংলাদেশ উইসো সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা আক্তার-উল-আলম বলেন, "বাংলাদেশে ব্যবহৃত অনেক ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যবান উপাদান বিদেশেই পুনরুদ্ধার ও পরিশোধিত হয়। ফলে অর্থনৈতিক সুবিধা বিদেশেই থেকে যায়, আর পরিবেশগত ক্ষতির বোঝা বহন করতে হয় বাংলাদেশকে।" সভায় অংশগ্রহণকারীরা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, উৎপাদকদের সম্প্রসারিত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব সার্কুলার অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।