খাগড়াছড়ি পৌর শহরের প্রবেশমুখ আলুটিলায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে উন্মুক্ত স্থানে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও পর্যটকরা। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র আলুটিলা। এদিকে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় ৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনাগারও কার্যত অচল হয়ে আছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত খাগড়াছড়ি পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এখনো পুরোনো পদ্ধতিই অনুসরণ করছে। বর্তমানে পৌরসভার বাসিন্দা প্রায় ৬০ হাজার। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার জিরোমাইল এলাকায় গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রসংলগ্ন খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে বর্জ্যরে দুর্গন্ধে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানির সঙ্গে বর্জ্যরে একটি অংশ চেঙ্গী নদীতে মিশে পরিবেশ দূষণের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ও পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় মোহাম্মদ হামীম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকায় অবস্থান করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। খাগড়াছড়ি পৌরসভা ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কুমিল্লাটিলায় প্রায় ১১ একর জমিতে ৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ করে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য পৃথকীকরণ, বর্জ্য পরিশোধন এবং জৈব সার উৎপাদন। তবে প্রকল্পটি চালুর কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদের মুখে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তাদের অভিযোগ, প্রকল্প চালুর পর দুর্গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। মশা-মাছি ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়ে যায়।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় প্রকল্প গ্রহণের আগে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে প্রকল্পটি প্রত্যাশিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অন্যত্র ডার্মিং স্টেশন করার চেষ্টা করছি।’ পরিবেশ অধিদপ্তরের খাগড়াছড়ির সহকারী পরিচালক হাছান আহম্মদ বলেন, ‘উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য অপসারণের কারণে স্থানীয় ছড়া, খাল দূষিত হচ্ছে। এটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পৌরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা দুই-তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করেছে। জনসাধারণের ভোগান্তি না হয় এবং পরিবেশের ক্ষতি না করে বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হবে।’








