ফেনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শহীদ শ্রাবণের বাবা নেছার উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‌আমাদের সংবর্ধনার দরকার নেই, সন্তানদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করুন। শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে রাজনীতি করবেন না।

বুধবার (৫ আগস্ট) জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাই শহীদদের পরিবার ও আহতদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। ফেনী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে, শহরের জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে শহীদ ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের পিতা নেছার উদ্দিন বলেন, আজ গণঅভ্যুত্থান দিবসে আমাদের পরিবার ও যোদ্ধাদের হাতে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আসলে আমরা আপনাদের কাছে এবং রাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের সংবর্ধনা চাই না। সংবর্ধনা পাওয়ার জন্য আমাদের ছেলেরা রাস্তায় জীবন দেয়নি; একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্যই তারা আওয়ামী লীগ ও পুলিশের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল।

আলোচনা সভায় অন্য বক্তারা বলেন, দেশের সব স্তরেই চরম বৈষম্য ছিল এবং সে বৈষম্য এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। জুলাই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বা শুধু ছাত্রদের আন্দোলন ছিল না; এতে কৃষক, মজুর থেকে শুরু করে সব পেশার মানুষের সম্পৃক্ততা ছিল। তাই আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক দলের ফ্রেমে বন্দি করে ভাগ করা মানে শহীদদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা। একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সরকার, বিরোধী দল এবং রাষ্ট্রের সব অংশীদারকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, সিভিল সার্জন ডা. সোহরাব আল হোসাইন, জেলা জামায়াতের আমির মুফতী আবদুল হান্নান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহ উদ্দিন মামুন ও জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান।

এছাড়াও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মনিরা হক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেএইচকে/জেআইএম