বিশ্বকাপের মঞ্চে শুধু প্রতিভা নয়, মানসিক শক্তি, অভিজ্ঞতা এবং দলগত ঐক্যেরও পরীক্ষা হয়। আমার মনে হয়, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন ও ইংল্যান্ড-এই পাঁচটি দল এবার ভালো করবে।

অন্তত গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলোতে তাদের পারফরম্যান্স সেকথাই বলছে। ফ্রান্সকে আমি কিছুটা এগিয়ে রাখব। প্রতিটি বিভাগে তাদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। গোলবারে মাইক মেনিয়াঁ, রক্ষণে উইলিয়াম সালিবা, জুল কুন্দে ও থিও হার্নান্দেজ, মাঝমাঠে অরেলিয়েন চুয়ামেনি এবং এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, আর সামনে কিলিয়ান এমবাপ্পে। সব মিলিয়ে দলটি ভারসাম্যপূর্ণ। কোচ দিদিয়ের দেশমের ক্ষুরধার মস্তিষ্কও দলের আরেক সম্পদ।

আর্জেন্টিনাকেও আমি সমান গুরুত্ব দিই। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলটি বড় ম্যাচ জেতার ক্ষমতা রাখে। লিওনেল স্কালোনির অধীনে তারা অসাধারণ একটি দলে পরিণত হয়েছে। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, রদ্রিগো দে পল এবং অতি অবশ্যই লিওনেল মেসি দলটির বড় শক্তি।

ব্রাজিলকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, রাফিনিয়া, ব্রুনো গিমারাইস এবং আলিসনের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে তারা বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান দল। ব্রাজিলের ফুটবলে এমন একটি সহজাত সৌন্দর্য আছে, যা যে কোনো ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। তবে তাদের সাফল্য অনেকটা নির্ভর করবে রক্ষণভাগ এবং কোচের পরিকল্পনার ওপর। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল ফিরেছে স্বমহিমায়। জেগে উঠেছে জোগো বোনিতো। ফুটবলের জন্য এটা ভালো খবর।

স্পেনও অন্যতম সম্ভাবনাময় দল। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে তারা দারুণ ছন্দে রয়েছে। পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, নিকো উইলিয়ামস এবং লামিনে ইয়ামালের মতো তরুণ তারকারা স্পেনকে নতুন শক্তি দিয়েছে। বল নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত আক্রমণ এবং দলগত বোঝাপড়ার কারণে তারা যে কোনো দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ইংল্যান্ডের বর্তমান প্রজন্মকে আমি শক্তিশালী মনে করি। জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা, ডেকলান রাইস এবং হ্যারি কেইনের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে তারা ভারসাম্যপূর্ণ দলগুলোর একটি। তবে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে নকআউট পর্বে।

আমার মনে হয়, শিরোপা লড়াই এই কয়েকটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। বিশ্বকাপের সৌন্দর্য হলো, এখানে কোনো কিছুই আগে থেকে নিশ্চিত নয়। সেজন্যই বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ক্রীড়া আসর।