জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে পুশইন ইস্যুর উত্তেজনার মধ্যেই এবার আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) এলাকায় ভারতীয় নাগরিকদের মাটি কাটার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার (২৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সীমান্তের ভারতীয় অংশে কয়েকজন ব্যক্তি ট্রাক্টর দিয়ে মাটি কাটছেন। স্থানীয়দের দাবি, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে মাটি কাটা নিষিদ্ধ হলেও সেই নিয়ম উপেক্ষা করে এ কাজ করা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিকদের বাধার মুখে ভারতীয় নাগরিকরা মাটি কাটা বন্ধ করতে বাধ্য হন।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, জামালপুর বকশীগঞ্জ সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে বেশ কয়েকজন নাগরিক ট্রাক্টর নিয়ে এসে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী ১৫০ গজের ভেতরে যেকোনো ধরনের খনন বা মাটি কাটা নিষিদ্ধ হলেও তা অমান্য করে এ কাজ করা হচ্ছিল।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বিজিবি সদস্যরা এসে মাটি কাটতে নিষেধ করলে ভারতীয়রা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখে। তবে বিজিবি সদস্যরা সেখান থেকে সরে যাওয়ার পরপরই ভারতীয়রা পুনরায় মাটি কাটা শুরু করে। পরে বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে বাধা দেন।
ভিডিওতে এক বাংলাদেশি নাগরিককে বলতে শোনা যায়, ‘১৫০ গজের ভেতরে মাটি কাটা নিষেধ, তার পরেও আপনারা কেন কাটছেন?’ জবাবে মাটি কাটতে আসা এক ভারতীয় নাগরিককে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের জমিতে ফসল হয় না, তাই মাটি কাটছি। আমরা বিএসএফের অনুমতি নিয়েই এখানে এসেছি।’
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাঙালি যুবকরা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বিজিবি যেহেতু নিষেধ করেছে এবং এটি দুই দেশের সীমান্ত এলাকা, তাই বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই মাটি কাটা যাবে না। ‘বিজিবি না করছে এটা আমাদের এরিয়া’—বলার পরে ভারতীয় ব্যক্তিরা মাটি কাটা বন্ধ রাখেন। তবে ভিডিওতে বিএসএফের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা জুম্মান বলেন, ‘আজকে ভারতীয়রা আমাদের বর্ডারের মাটি কাটতে আসছিল। এটা দেখে আমি আর এলাকার মানুষজন একজোট হয়ে বাধা দিই। আমাদের কড়া প্রতিবাদের মুখে তারা আর মাটি কাটতে পারেনি। আমাদের দেশের মাটি ওরা এভাবে নিয়ে যাবে, তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।’
এ বিষয়ে সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি এবং বিজিবির পদক্ষেপ জানতে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হৃদয় আহম্মেদ/কেএইচকে/এমএস








