আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে রয়েছে। গত চার মাসে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে পুরোদস্তুর যুদ্ধ চালিয়েছে। ইরানও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অবকাঠামো এবং ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
গত এপ্রিলের শুরুতে দুই পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর জুনে সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা স্মারক করে তারা। কিন্তু সেসব চুক্তি এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো হয়তো কখনোই সম্ভব নয়।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর ক্রমবর্ধমান এই বৈরিতা প্রমাণ করে যে বিশ্লেষকদের এমন সন্দেহ অমূলক নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নতুন কোনো অধ্যায়ে রূপ নেওয়ার বদলে পুরোনো গোলকধাঁধায় আটকে আছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘন ও অসততার অভিযোগ তুলছে। সরাসরি আলোচনার বদলে তারা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ভাঙাচোরা সংলাপ চালাচ্ছে। সম্প্রতি ইরানের ওপর ৩০০-এর বেশি মার্কিন হামলা হয়েছে। অন্যদিকে তেহরানও অন্তত পাঁচটি আঞ্চলিক দেশ ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী একাধিক জাহাজে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
তবুও এই যুদ্ধই হয়তো আপাতবিরোধীভাবে দুই দেশের ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানোর একটি সুযোগ তৈরি করেছে। কারণ, এই সংঘাত এখন এমন এক অচলবস্থায় এসে ঠেকেছে, যা কারও জন্যই স্বস্তিদায়ক নয়। ওয়াশিংটন স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারছে যে তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারছে না, পারছে না তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে কিংবা আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থন ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে বাধ্য করতে।
একইভাবে তেহরানও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আঙিনা থেকে তাড়াতে বা ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ বন্ধ করতে পারছে না। সহজ কথায়, এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে কোনো সরকারই অপর পক্ষকে পুরোপুরি পরাস্ত করতে পারবে না এবং এই লাগামহীন শত্রুতার খেসারত দিন দিন বড্ড ভারী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
যুদ্ধ চলতে থাকলেও উভয় দেশের অনেক কর্মকর্তাই এখন এই বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছেন। ফলে দুই পক্ষের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ সহাবস্থানের পথ খুঁজছেন। প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম শীর্ষ মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার টেবিলে সরাসরি মুখোমুখি বসেছেন। তাঁরা অর্থপূর্ণ আপস-রফা নিয়ে আলোচনা করছেন। এমনকি দুই পক্ষ একটি সামরিক ‘হটলাইন’ চালু করতেও সম্মত হতে পারে, যাতে যেকোনো সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই উদ্যোগ সফল হলে ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে হামলার পর এটিই হবে প্রথম কোনো সরাসরি মার্কিন-ইরান যোগাযোগের মাধ্যম।
এসব প্রচেষ্টা অবশ্য ব্যর্থও হতে পারে। কারণ, সমঝোতা স্মারকটি এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে। দুই দেশেই এমন শক্তিশালী গোষ্ঠী রয়েছে, যারা কূটনীতির বিরোধিতা করে ও সংঘাত পছন্দ করে। দুই চিরশত্রুর এই আলোচনারও একটা সীমাবদ্ধতা থাকবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে দুই পক্ষই হয়তো একই অনিচ্ছুক সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে, পুরোনো কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।
সর্বোচ্চ ব্যর্থতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার শেষ বড় চেষ্টা ছিল ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ছিল একটি সীমিত চুক্তি। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছিল। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেয়।
কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এটি ছিল আরও বড় একটি বাজি। কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন, পারমাণবিক সমস্যার সমাধান হলে হয়তো লেবাননের হিজবুল্লাহ বা ইয়েমেনের হুথিদের মতো আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের প্রতি ইরানের সমর্থন নিয়েও আলোচনা করা যাবে। একসময় হয়তো দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কও তৈরি হতে পারত।
চীন যে সাত কারণে ইরানের হয়ে যুদ্ধে জড়াবে নাকিন্তু এই ধারণার সঠিক পরীক্ষা কখনোই করা যায়নি। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে যখন চুক্তিটি কার্যকর হয়, তত দিনে দুই পক্ষের আলোচকেরা তাঁদের ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরপরই দুই দেশে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকানরা এবং কিছু ডেমোক্র্যাট সদস্য ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নরম হওয়ার অভিযোগে এটি প্রত্যাখ্যান করেন। অন্যদিকে তেহরানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফকে কট্টরপন্থীদের তোপের মুখে পড়তে হয়।
ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কথা বলার মতো রাজনৈতিক জায়গা বা কূটনৈতিক শক্তি কোনো পক্ষেরই ছিল না। আর ২০১৬ সালের শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তখন অবশিষ্ট সুযোগটুকুও শেষ হয়ে যায়। ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ চুক্তি’ বলে আখ্যা দেন এবং ২০১৮ সালে এটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেন। তিনি ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে নতজানু করার প্রতিশ্রুতি দেন।

কিন্তু এই চুক্তির অবসান শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষের জন্যই ভালো কিছু বয়ে আনেনি। ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থীরা ভেবেছিলেন বেশি নিষেধাজ্ঞা ও একাকিত্ব ইরানকে আরও ভালো একটি চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করবে, অথবা তাদের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, কিন্তু তা হয়নি। ইরান এই চাপ সহ্য করে নিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও বাড়িয়েছে এবং দেশের ভেতরে আরও কঠোর ও অঞ্চলে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।
রুহানির জায়গায় আসেন কট্টরপন্থী ইব্রাহিম রাইসি, যিনি চুক্তি বিরোধীদের আরও ক্ষমতাশালী করেন। তবে ইরানি কট্টরপন্থীরাও সফল হননি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভের জন্ম দেয়। আর ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর, ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।
তবুও ওয়াশিংটন বা তেহরান—কেউই তাদের অবস্থান বদলায়নি। বরং দুই পক্ষই আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে, যার চূড়ান্ত রূপ নেয় গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ। তবে এই অচলবস্থা হয়তো দুই দেশের পুরোনো ধারণা বদলে দিতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ এখন বুঝতে পারছেন যে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েও ওয়াশিংটন ইরানের নীতি পরিবর্তন করতে পারেনি। অন্যদিকে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি হয়তো যুদ্ধ থেকে টিকে গেছে, কিন্তু দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে না পারলে শান্তির সময়ে টিকে থাকা তাদের জন্য কঠিন হবে।
অতীত ও উদাহরণ
যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও তার শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। চীনে কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ২০ বছর ওয়াশিংটন দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। কিন্তু ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে কোরিয়া ও ভিয়েতনামে চীনের বিরুদ্ধে পরোক্ষ যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন যে বিচ্ছিন্নতা দিয়ে চীনের বিপ্লব নস্যাৎ করা যাবে না। বরং বেইজিং ও মস্কোর মধ্যকার ভূরাজনৈতিক দূরত্বকে কাজে লাগানোই হবে মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে। ফলে ওয়াশিংটন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ধীর প্রক্রিয়া শুরু করে।
এই প্রক্রিয়ার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন ত্যাগ করেনি। বরং মূল বিরোধগুলোকে এক পাশে সরিয়ে রেখে বেইজিং ও ওয়াশিংটন পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে সহযোগিতার জায়গা খুঁজে নেয়। মূল শিক্ষা ছিল শত্রুতা পুরোপুরি শেষ না করেও কূটনীতি শুরু করা সম্ভব।
বিশ্বকে এক ভয়ংকর শিক্ষা দিল ইরানভিয়েতনামের উদাহরণটি আরও নাটকীয়। সেখানে কমিউনিস্টদের বিজয় ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর যুদ্ধ করেছে, যাতে লাখ লাখ ভিয়েতনামি বেসামরিক নাগরিক ও সেনা নিহত হন। সেই যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন হ্যানয়কে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। তবে ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটন বুঝতে পারে যে চিরশত্রুতার চেয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাই মার্কিন স্বার্থের জন্য ভালো। ১৯৯৫ সালে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুত্থান করে ও দূতাবাস খোলে।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সব উদ্যোগ সফল হয়নি। ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে দশকের পর দশক ধরে দেশটিকে বিচ্ছিন্ন রেখে মার্কিন স্বার্থ বা কিউবার গণতন্ত্র—কোনোটিই অর্জন করা যায়নি। কিন্তু ওবামার এই পদক্ষেপ মূলত নির্বাহী আদেশের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যার কোনো জোরালো দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক সমর্থন ছিল না। ফলে ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে ওবামার কিউবা নীতি এবং ইরানের পারমাণবিক চুক্তি—দুটিই বাতিল করে দেন।
তবে ইরানের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের বর্তমান প্রচেষ্টাকে কিউবা বা পুরোনো পারমাণবিক চুক্তির মতো হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে একটি যুদ্ধের পর, যা দুই পক্ষই সবেমাত্র প্রত্যক্ষ করেছে। এর সঙ্গে বেইজিং বা হ্যানয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগার মিল বেশি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বুঝতে শুরু করেছে যে কেবল শক্তি প্রয়োগ করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
একটিই পথ
এর মানে এই নয় যে কোনো বড় ধরনের চুক্তি একদম হাতের নাগালে, মোটেও তা নয়। প্রকৃতপক্ষে, তাৎক্ষণিক কাজ হলো জুনের সমঝোতা স্মারকটি যেন ঘন ঘন পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।
উভয় পক্ষেরই অতীতের একটি মূল শিক্ষা নেওয়া উচিত—২০১৫ সালের চুক্তিটি টেকনিক্যালি দুর্বল ছিল না, বরং এটি রাজনৈতিকভাবে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল। চুক্তির বিরোধীরা ছিল গোছানো ও অবিচল। আর এর সমর্থকেরা ভুলভাবে ভেবেছিলেন যে চুক্তি কার্যকর হলেই এর পক্ষে জনমত তৈরি হবে। ইরানের সঙ্গে যেকোনো নতুন চুক্তি করার সময় মাথায় রাখতে হবে, চুক্তির সুফলভোগীদের চেয়ে এর বিরোধীরা বেশি দ্রুত তৎপরতা চালাবে।
প্রথমে ইরানের অভ্যন্তরীণ কঠিন পরীক্ষার কথাই ধরা যাক। ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি এখন একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা ও একটি নতুন রাজনৈতিক এলিট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যাদের যুদ্ধের সময়কার ঐক্য আসলে ভবিষ্যতের গভীর মতভেদকে আড়াল করে রেখেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে হেরে গেছেনকেউ কেউ মনে করেন, যুদ্ধের পর শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতাই একমাত্র পথ। আবার কেউ কেউ একে আদর্শিক বিচ্যুতি বলে মনে করেন। তবে ইরানি নীতিনির্ধারকদের ভবিষ্যৎ ভাবনা যা-ই হোক না কেন, যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত লাভ—যেমন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করার বিষয়ে তাঁরা সবাই একমত। এই দুই পক্ষের মধ্যকার ভারসাম্য কোনো বক্তৃতার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না, এটি নির্ভর করবে কূটনীতির ফলে সাধারণ ইরানিরা অর্থনৈতিক স্বস্তি পাচ্ছে কি না, তার ওপর।
ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য প্রশ্ন হলো, তারা তাদের এই নীতির পরিবর্তনের গভীরতা বুঝতে পারছে কি না। জুনের সমঝোতা স্মারকে যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে, তা যদি কার্যকর হয়, তবে তা কেবল একটি চুক্তি হবে না। এটি ইঙ্গিত দেবে যে দীর্ঘ চার দশক ধরে ইরানকে চাপে রাখার নীতি ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটন অবশেষে ‘অবরোধ’ নীতি ত্যাগ করতে রাজি হয়েছে।
সামনের চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্ট। সমঝোতা স্মারকের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে চুক্তিটি সই হওয়ার এক মাসের মধ্যেই এখন লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। ওয়াশিংটনকে এখন এমন একটি সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হবে, যা তারা এত দিন এড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র কি শুধু ইরান ও তার মিত্রদেরই নিয়ন্ত্রণ করবে, নাকি তার নিজের মিত্রদেরও (ইসরায়েল) থামাবে?
যদি বিরোধীদের ঠেকিয়ে রাখাও যায় এবং তেহরান ও ওয়াশিংটন যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে আলোচনার টেবিলে ফিরেও আসে, তা–ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আলোচনার টেবিল ভেঙে যাওয়ার জন্য সামান্য উসকানিই যথেষ্ট।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বন্ধু হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাদের শুধু এমন একটি ভিত্তি দরকার, যা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়বে না। আর তারা যদি এতে সফল হয়, তবে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
আলী বায়েজ ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ ইরান প্রকল্প পরিচালক। ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে অনূদিত।






