যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইসরায়েলকে দেশটির ‘ব্যতিক্রমী মিত্র’ হিসেবে দেখছে না। ফলে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র) নীতির বাইরে আর থাকছে না ইসরায়েল। পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাতে পলিটিকো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমে ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশলগত নীতি অনুসরণ করছে, যা তারা অন্যান্য মিত্রদেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি রাজনৈতিক উপদেষ্টাও পলিটিকোকে একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের ধারণা ছিল, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতার বাইরে থাকবে।
পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনে ইসরায়েলের বিষয়ে নীতিগত এ পরিবর্তনের পক্ষে অন্যতম জোরালো সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি অস্বাভাবিক রকম খোলাখুলিভাবে ইসরায়েলের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
ওই উপদেষ্টা এ নিয়ে বলেন, ‘আমরা সরলভাবে ধরেই নিয়েছিলাম, ব্যতিক্রম হিসেবে আমাদের আমেরিকা ফার্স্ট নীতির বাইরে রাখা হবে; যদিও এ অবস্থা বেশি দিন টেকার কথা ছিল না। চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সব পররাষ্ট্রনীতিগত সিদ্ধান্তে আমরা ব্যতিক্রমী মিত্র হিসেবে থাকতে পারছিলাম না।’
পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনে ইসরায়েলের বিষয়ে নীতিগত এ পরিবর্তনের পক্ষে অন্যতম জোরালো সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি অস্বাভাবিক রকম খোলাখুলি ইসরায়েলের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘সম্পর্ক ছিন্ন’ করার হুমকি, ট্রাম্প বলেছেন—‘বিবি, সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত’ভ্যান্স ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রই ইসরায়েলের ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’। একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনের সমর্থনকে নিশ্চিত বা স্বতঃসিদ্ধ ধরে না নেওয়ার ব্যাপারে ইসরায়েলকে সতর্ক করেন বলে পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়।
সবচেয়ে খারাপ সময় আসা এখনো বাকি।দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগও কমে এসেছে বলে পলিটিকোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ দাবির পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে পলিটিকো বলেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৫ সালে পাঁচবার ওয়াশিংটন সফর করেছিলেন। তবে ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত মাত্র একবার সফর করেছেন। সেটাও ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে।

এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে পলিটিকো জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর আরেকটি সফরের সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত বিবেচনায় নেই। একই সঙ্গে দুদেশের সরকারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগও আগের তুলনায় কমে গেছে।
‘আপনি পাগল, এখন সবাই আপনাকে ঘৃণা করে’, নেতানিয়াহুকে বললেন ট্রাম্পওই সূত্র সতর্ক করে আরও বলেছে, ‘সবচেয়ে খারাপ সময় আসা এখনো বাকি।’
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২ জুন টেলিফোনে কথোপকথনের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন। পলিটিকোর এ প্রতিবেদনে তারই ধারাবাহিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থান ও পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ‘পাগল’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
পরে ট্রাম্প স্বীকার করেন, ওই আলাপচারিতায় তিনি নেতানিয়াহুকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেছিলেন।
নেতানিয়াহুকে পাগল বলার কথা নিজেই জানালেন ট্রাম্প







