এবার বর্ষা মৌসুমে তুলনামূলক বৃষ্টি কম। আর কোথাও কোথাও তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও খরার কারণে ফসলের মাঠ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে ধান আবাদ মৌসুমের মাঝামাঝি এসেও বীজতলা প্রস্তুত করা যাচ্ছে না। যদিও এ বছর বরিশাল অঞ্চলের ৬ জেলায় ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমিতে ধান লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা না মেলায় এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসেই বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হয় কৃষকের। ঋতুচক্র অনুযায়ী বৈশাখের শুরু থেকেই বৃষ্টির দেখা মেলে দক্ষিণাঞ্চলে। তবে এ বছর আষাঢ়ের অর্ধেকটা পেরিয়ে গেলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা।
বরিশালের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ৯ মার্চ মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি হয় বরিশালে। ওই মাসে অন্য বছরের তুলনায় বৃষ্টির ঘাটতি ছিল শতকরা ৪৯ ভাগ। এপ্রিলে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৭৯ ভাগ বৃষ্টি বেশি হলেও আবার সংকট দেখা দেয় মে মাসে। এ মাসে আবার স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৩ ভাগ বৃষ্টি কম হয় বরিশালে। চলতি আষাঢ় তথা বর্ষার ভরা মৌসুমেও তুলনামূলক বৃষ্টির কথা স্বীকার করেছেন আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তারা।
এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা। মাঠ শুকনো থাকায় চলতি মৌসুমে আউশ আর রোপা আমনের বীজতলা প্রস্তুত করতে পারছেন না তারা। ঝালকাঠির নলছিটির মোল্লারহাট ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বীজতলা করতে ভেজা জমির দরকার। কিন্তু এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় শুকনো রয়ে গেছে জমি। ফলে বীজতলা করা যাচ্ছে না।’
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের কৃষক শফিক মুন্সি বলেন, ‘নদী কিংবা খালের পাড়ের নরম মাটিতে কিছু বীজতলা করা হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়।’ বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কৃষক এনামুল হাওলাদার বলেন, ‘কিছু এলাকায় পানির পাম্প বসিয়ে বীজতলা করার চেষ্টা চলছে। তবে তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। বীজতলা করা না গেলে ধানের চারা যেমন আসবে না তেমনি ফসলের আবাদও বাধাগ্রস্ত হবে।’ পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার ইকরি ইউনিয়নের কৃষক আফাজ মল্লিক বলেন, ‘সময়মতো বীজতলা করতে না পারলে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ এবার বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমিতে আউশ ও ৭ লাখ ৭৪৩ হেক্টরে রোপা আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টি কম হওয়ায় ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা।
অধিদপ্তরের বরিশাল দপ্তরের উপপরিচালক মরিয়ম বেগম বলেন, ‘এটা ঠিক যে বৃষ্টি কম হয়েছে। তবে এখনো শঙ্কার কিছু দেখছি না। বৃষ্টির সময় যেমন শেষ হয়ে যায়নি তেমনি বীজতলা করারও সময় আছে। আশা করছি যে, বীজতলা করার সময় শেষ হওয়ার আগেই জটিলতা কেটে যাবে। আমরাও আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব।’








