অনলাইনে ঘুরছে কয়েকটি ভিডিও। একটিতে দেখা যায়, হাতে থাকা একটি পিস্তল থেকে পরপর ছোড়া হচ্ছে কয়েক রাউন্ড গুলি। গুলির শব্দে প্রকম্পিত আশপাশ। তবে ভিডিও ধারণ অব্যাহত।

কয়েক সেকেন্ড পরেই বদলে যায় দৃশ্যপট। একটি বিছানার চাদরের ওপর সাজিয়ে রাখা একটি নাইন এমএম পিস্তল, একাধিক ম্যাগাজিন, কয়েক রাউন্ড তাজা গুলি ও ব্যবহৃত গুলির খোসা। অস্ত্রটির বিভিন্ন অংশ দেখিয়ে এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করছেন একজন।

এমনকি কীভাবে ম্যাগাজিন ভরতে হয়, কীভাবে অস্ত্রটি প্রস্তুত করতে হয় এসব নিয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয় ভিডিওতে।

আরও পড়ুন

রাত থেকে যৌথবাহিনীর অভিযান, অস্ত্র-গোলাবারুদ-মাদক পেলেই আটক

দেশের প্রেক্ষাপটে কিছুটা অস্বাভাবিক কিংবা ধাক্কা খাওয়ার মতো বিষয় হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবে প্রকাশ হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্রের প্রচার ও সম্ভাব্য ক্রেতা সংগ্রহ করছে কয়েকটি অসাধু চক্র। একাধিক ভিডিওতে একই ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে আগ্নেয়াস্ত্রকে সাধারণ পণ্যের মতো উপস্থাপন করা হচ্ছে।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কারখানাসদৃশ একটি কক্ষ। সেখানে টেবিলের ওপর ছড়িয়ে রাখা পিস্তল তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ধাতব ফ্রেম, স্লাইড, ব্যারেল ও অন্য সরঞ্জাম। ক্যামেরা ঘুরিয়ে পুরো কক্ষ দেখানো হয়।

যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্ত্র বিক্রির জন্য পোস্ট দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারেও সব ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে।-পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান

ভিডিওতে দাবি করা হয়, এখানেই অস্ত্র প্রস্তুত করা হয়। যদিও ওই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি জাগো নিউজ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সাধারণত এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত নজরদারি, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করে। তবে ভিডিওর উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে অস্ত্রের সহজলভ্যতার ধারণা দেওয়া।

৬৪ জেলায় হোম ডেলিভারি দেওয়ার দাবি

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভিডিওতে প্রকাশ্যে দাবি করা হয়- দেশের ৬৪ জেলায়ই হোম ডেলিভারির মাধ্যমে পিস্তল পৌঁছে দেওয়া হয়। একটি প্যাকেট মোড়ানো পিস্তল দেখিয়ে বলা হয়, সেটি কক্সবাজারের এক গ্রাহকের কাছে পাঠানো হবে।

আরও বলা হয়, যারা অস্ত্র কিনতে আগ্রহী তারা নির্দিষ্ট একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করলেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ‘মাল’ নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ঝামেলামুক্ত বলেও প্রচার করা হয়।

আরও পড়ুন

অস্থির সমাজে দুর্বল পুলিশিং, লাগামহীনভাবে ঘটছে খুনখারাবি

সম্প্রতি প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান ভিডিওটি তার ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এভাবে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি বিক্রির প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। প্রচারিত এসব ভিডিও বাংলাদেশে ধারণ করা হয়েছে কি না, সেসব নিয়ে সংশয় থাকলেও এভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার করে প্রকৃতপক্ষে অবৈধ অস্ত্রের বিক্রি হচ্ছে- সে বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে সত‍্যতা পাওয়া গেছে।

এসব বিজ্ঞাপনের সঙ্গে দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট সচল থাকতেও দেখা যায়। যাদের ইন্ধনে অবাধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের কেনাবেচা চলছে, দ্রুত তাদের চিহ্নিত করে যথোপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খায়রুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় অনলাইনের অস্ত্র কেনাবেচার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর ভাটারা থানার হেফাজতে রাখা তার ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা একটি বৈধ অস্ত্র গায়েব (লুট) হয়, কিন্তু সেই অস্ত্রের কোনো হদিস পাননি।

আরও পড়ুন

ভোটের আগে লুটের অস্ত্র নিয়ে মাথাব্যথা

ফলে লুট হওয়া পুলিশের সরকারি অস্ত্র-গোলাবারুদের সঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ের লাইসেন্স করা অস্ত্র-গুলি কাদের হাতে রয়েছে, সেটি বড় প্রশ্ন। লুট হওয়া ওই সব আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিই কী অনলাইন ও অফলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে? নাকি সন্ত্রাসমূলক কাজে ব্যবহার হচ্ছে? তাই অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালানোর আহ্বান জানান সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ভিডিও কেবল অবৈধ অস্ত্রের বাজারজাতকরণই নয়, বরং সংঘবদ্ধ অস্ত্রচক্রের কার্যক্রমের ইঙ্গিতও বহন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধী চক্রগুলো এখন সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে। এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করায় তাদের শনাক্ত করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে।

অনলাইনে অস্ত্র কেনাবেচা কিংবা এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ডিবি কাজ করছে। আমরা বেশকিছু লিংক নজরদারিতে রেখেছি।-ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (দক্ষিণ) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম

অপরাধ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অস্ত্রের প্রদর্শনী, বিক্রির প্রলোভন ও হোম ডেলিভারির দাবি সম্বলিত ভিডিও নজরে এসেছে। এসব ভিডিওর মাধ্যমে অস্ত্রকে সহজলভ্য ও বৈধ পণ্যের মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকটি পেজ ও গ্রুপ অনুসন্ধান করে দেখা যায়, অর্ডার করার জন্য রয়েছে একাধিক মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর। ২৪ ঘণ্টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপদে হোম ডেলিভারির কথা হয়েছে।

আরও পড়ুন

আতঙ্ক বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক ‘টার্গেট কিলিং’

পিস্তল কিনলে তিন পিস ম্যাগাজিন, ১০ পিস বুলেট থাকবে। অতিরিক্ত বুলেট কিনতে হলে ৭৫০ থেকে ১৫০০ টাকা করে বুলেটের মূল্য বলা হয়েছে। পিস্তল ৩০ কেজি চালের বস্তার ভেতর প্যাকেজিং করে ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে লোকেশন অনুযায়ী ডেলিভারি করে দেওয়া হবে বলে দাবি করা হয়।

বিক্রি হচ্ছে পিস্তল-রিভলবারও

অন্যদিকে মেটাল বডির অবিকল নকল পিস্তল-রিভলবারও বিক্রি হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দোকানে। অনেক সময় সেগুলোকে খেলনা পিস্তল হিসেবে প্রদর্শন করে বিভিন্ন দামসহ ফেসবুকে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই খেলনার আড়ালে মূলত প্রকৃত পিস্তল বেচাকেনা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তেমন নজরদারি নেই বললেই চলে।

বাজার ব্যবস্থার বড় অংশ অনলাইনে চলে যাওয়ায় অপরাধীরাও এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে লুট হওয়া সব অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় অবৈধ অস্ত্রের অনলাইন বেচাকেনা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।-মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক

এছাড়া সম্প্রতি কক্সবাজারসহ দেশের কিছু সীমান্ত এলাকায় অনলাইন যোগাযোগে অস্ত্র কেনাবেচার কিছু অপতৎপরতার খবরও শোনা যাচ্ছে। ফলে থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ ও সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এসব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোয় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

উদ্ধার হয়নি ৫ আগস্ট লুট হওয়া অনেক অস্ত্র

পুলিশ সদর দপ্তরের সবশেষ তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়ে পুলিশের ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট করা হয়। লুট হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে সবশেষ ৪ হাজার ৪৪৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ১ হাজার ৩১৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো হদিস মেলেনি। এসব মারণাস্ত্র কার হাতে বা কোথায় আছে, সেটিও অজানা।

উদ্ধার না হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- চায়নিজ রাইফেল, চায়নিজ সাব-মেশিনগান (এসএমজি), দুই শতাধিক চায়নিজ পিস্তল, চার শতাধিক বোরের পিস্তল, ১২ বোরের বহু শটগান এবং এলএমজিসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র।

আরও পড়ুন

ঢাকায় চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই ঠেকাতে নাজেহাল পুলিশ

এছাড়া ওই সময়ে লুট করা হয় বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রের ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গুলি, যার মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৪ লাখ ৯ হাজার ৮টি। এখনো অন্তত ২ লাখ ৪৩ হাজার গুলির হদিস নেই। পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদের মধ্যেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাচ্ছে ব্যাপক হারে।

ক্রেতা সেজে এ ধরনের কয়েকটি পেজে থাকা নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কেউ ফোন কেটে দিয়েছেন, কেউ রিসিভ করেননি। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পেজের নামগুলো গোপন রাখা হলো।

যা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জাগো নিউজকে বলেন, ‘যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্ত্র বিক্রির জন্য পোস্ট দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারেও সব ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, অনলাইনে অস্ত্র-সংশ্লিষ্ট বলে প্রচার করা অনেক ফেসবুক পেজ বা অ্যাকাউন্টের প্রকৃতপক্ষে অস্ত্রের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

অনেক ক্ষেত্রে এগুলো কেবল ছবি ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে দাবি করে তিনি বলেন, এসব প্রতারণামূলক কার্যক্রমের একটি অংশ দেশ থেকে পরিচালিত হলেও অনেক অ্যাকাউন্ট মালয়েশিয়া, ইতালি ও সাইপ্রাসসহ বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ফলে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক এখতিয়ারগত জটিলতা তৈরি হয়। তারপরও আমরা বিষয়গুলো নজরদারিতে রেখে কাজ করছি।

তিনি বলেন, যদি এ ধরনের প্রতারণা বা ভুক্তভোগী সম্পর্কিত কোনো তথ্য কারও কাছে থাকে, তাহলে সরাসরি পুলিশের কাছে জানালে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারবো।

আরও পড়ুন

ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে ফের অস্থিরতা, টিটন হত্যা নিয়ে অন্ধকারে পুলিশ

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (দক্ষিণ) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনলাইনে অস্ত্র কেনাবেচা কিংবা এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ডিবি কাজ করছে। আমরা বেশকিছু লিংক নজরদারিতে রেখেছি।’

যা বলছেন জননিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ

অনলাইনে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কেনাবেচা জননিরাপত্তার জন্য ক্রমেই বড় হুমকি হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থার বড় অংশ অনলাইনে চলে যাওয়ায় অপরাধীরাও এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে লুট হওয়া সব অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় অবৈধ অস্ত্রের অনলাইন বেচাকেনা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স বা সরকারি অনুমোদন ছাড়া অস্ত্র কেনাবেচার ফলে অর্থ থাকলেই অপরাধী চক্র বা তরুণদের হাতে অস্ত্র পৌঁছে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।’

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি অনলাইনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর সমন্বিত অভিযান, নিরপেক্ষ তদন্ত ও শহরকেন্দ্রিক চিরুনি অভিযানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আগ্নেয়াস্ত্র আইন

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড: লাইসেন্স ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র বা গোলাবারুদ তৈরি, রূপান্তর বা বিক্রি করলে ন্যূনতম ৭ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

অবৈধভাবে অস্ত্র কেনা: লাইসেন্সবিহীন কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে জেনেশুনে অস্ত্র বা গোলাবারুদ কিনলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

অস্ত্র গোপন করা: আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে গোপনে অস্ত্র কেনাবেচা বা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

টিটি/এএসএ/ এমএফএ