ব্রাজিলের হার বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। বাংলাদেশের মতো সারা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত কেঁদেছেন। কিন্তু ব্রাজিলের বর্তমান দলটি খুবই ভঙ্গুর। এই দল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কঠিন। নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে কোচ আনচেলত্তি যে বাজি ধরেছিলেন, সেটি আসলে ভুল ছিল। এতটা আনফিট একজন খেলোয়াড়কে দলে রাখাই উচিত হয়নি। খেলোয়াড় যত বড়ই হোক না কেন, ফিট না থাকলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল খেলা সম্ভব নয়। ব্রাজিলের পুরো দলটাই ছিল ভিনিসিয়ুসনির্ভর। ফলে তার ওপরই সব চাপ এসে পড়ে। তাকে সমানভাবে সহায়তা করার মতো মানসম্পন্ন আর কোনো ফুটবলার এই দলে ছিল না। নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে না এলে এই দলের পক্ষে সামনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। এবারের বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্রাজিলের সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনাই ছিল না।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই পেনালটি মিস করায় ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা লাগে। সেই ধাক্কা তারা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি। একই সঙ্গে নরওয়ের গতিময় ফুটবলের সঙ্গেও তারা পেরে ওঠেনি। আনচেলত্তি যে কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়েছিলেন, সেগুলোর কোনোটিই কার্যকর হয়নি। কাউন্টার অ্যাটাকনির্ভর পরিকল্পনাও সফল হয়নি। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শুধু এমন কৌশলে ভরসা করলে খুব বেশি লাভ হয় না। আর্লিং হলান্ড একাই ম্যাচের চিত্র বদলে দিয়েছেন। মাঠে তাকে সব সময় খুব বেশি সক্রিয় মনে না হলেও দুটি সুযোগ পেয়েই তিনি তা কাজে লাগিয়েছেন। বড় খেলোয়াড়দের বিশেষত্বই হলো, তারা অল্প সুযোগেও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। এই দুটি গোল করে হলান্ড এখন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান সাত গোলের মালিক। সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়েও তিনি এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

হলান্ডের পাশাপাশি নরওয়ের গোলকিপারও ছিলেন দলের অন্যতম নায়ক। ফুটবলে একটি প্রচলিত কথা আছে একটি ম্যাচের অর্ধেক নির্ভর করে গোলকিপারের ওপর, আর বাকি অর্ধেক দলের অন্য দশ খেলোয়াড়ের ওপর। এবারের আসরে গোলকিপাররা অসাধারণ সব সেভ করে পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন।

ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর ম্যাচটি ছিল দারুণ উপভোগ্য ও রোমাঞ্চকর। ইংল্যান্ডের জন্য ম্যাচটি ছিল প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার লড়াই। স্বাগতিক মেক্সিকোর ঠাসা গ্যালারির সামনে জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইনদের পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তবে মেক্সিকোর জন্য খারাপ লাগছে। দেশটি ফুটবলকে হৃদয়ে ধারণ করে, নিজেদের মাঠে খেলেও তারা বিদায় নিল করুণভাবে। একই সঙ্গে বিদায় বললেন মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলকিপার ওচোয়া। দেশের ফুটবলে তার অবদান মেক্সিকো চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।