শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শিক্ষা সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে ২০ জুন থেকে এই আন্দোলন চালিয়ে আসছে দলটি। এরই মধ্যে রোববার থেকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলেন প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। দ্য হিন্দু।
প্রচলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেই সোনাম ওয়াংচুক হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা-জবাবদিহি আনা এবং লাদাখের পরিবেশগত সুরক্ষা ও স্বায়ত্তশাসন, এই দুটি দাবির কোনো একটিও যদি সরকার ২৮ জুনের মধ্যে না মানে, তবে তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসবেন। শেষ পর্যন্ত মোদি সরকার তার দাবিতে কান না দেওয়ায় অনশনে বসেন তিনি। তার সঙ্গে অনশনে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। ওয়াংচুক বলেন, যারা সরাসরি দিল্লিতে এসে আন্দোলনে যোগ দিতে পারবেন না, তারা নিজের শহর, জেলা বা গ্রামে একই দাবিতে একদিনের অনশন করতে পারেন। ওয়াংচুক আরও বলেন, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ হতে পারে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। কিন্তু অনশন আন্দোলন শুরু হতেই তৈরি হয় এক চরম বিতর্ক। ওয়াংচুক অনশনে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই আন্দোলনস্থলের জল এবং শৌচাগার বা স্যানিটেশন পরিকাঠামোর সংযোগ কেটে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের এই অমানবিক মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমরা বারবার পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছি। ওয়াংচুকের বয়স এবং তার স্বাস্থ্যের নানাবিধ উদ্বেগের কথা অফিসারদের জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না। আমাদের সন্দেহ, আগামী দিনে হয়তো অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধাগুলোও কেটে দেওয়া হবে। পুলিশ আসলে কী করতে চাইছে?’ রোববার আন্দোলন শুরু হতেই সিজেপিপ্রধান অভিজিৎ দীপকে আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং পাঞ্জাবের বেশ কয়েকজন প্রথম সারির কৃষক নেতা যাতে এই ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিতে দিল্লিতে আসতে না পারেন, তার জন্য তাদের নিজেদের বাড়িতেই ‘গৃহবন্দি’ করে রেখেছে পুলিশ।
যদিও এই দাবির সত্যতা এখনো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।








