অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কারা এর পেছনে জড়িত- সবকিছু খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অবিলম্বে নির্দেশ দেওয়া উচিত।’

আজ রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক বক্তব্যের কড়া জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে শাহজাহান চৌধুরী দাবি করেছিলেন, ‘জামায়াতকে জানতে হলে ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে।’

তাঁর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট এই দলের প্রতিষ্ঠা হয়। ফলে দলটির ইতিহাস এখনো ১০০ বছর পূর্ণই হয়নি। তা ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার তীব্র বিরোধিতা করেছিল এবং সে সময় দলটির দুজন নেতা পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। এসব বিষয় ইতিহাসের অকাট্য অংশ এবং আইনগতভাবেও প্রমাণিত।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নির্বাচন ইশতেহারে কোথাও শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র, ইসলামি বিচারব্যবস্থা, ইসলামি অর্থনীতি বা শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট কোনো অঙ্গীকার নেই। দলটি মূলত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতির শ্বেতপত্রের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, গত দেড় দশকে লাগামহীন দুর্নীতি, অর্থপাচার ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর কারণে দেশের অর্থনীতি ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে প্রস্তাবিত বাজেটকে একটি ‘নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ বা ‘নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, এই বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নতুন কোনো কর আরোপ না করায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।