কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে অনুমতি ছাড়া কপিরাইটযুক্ত বই ব্যবহার করার অভিযোগে দায়ের করা একটি ঐতিহাসিক মামলায় দেড় শ কোটি মার্কিন ডলারের সমঝোতা হয়েছে।

এআই চ্যাটবট ক্লড-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক-এর সঙ্গে হওয়া এই সর্বকালের বৃহত্তম কপিরাইট নিষ্পত্তির অন্যতম সুবিধাভোগী হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের ব্রিটিশ প্রকাশক সংস্থা ব্লুমসবারি।

প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে, আইনজীবীদের ১০ শতাংশ ফি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় কাটার পর তারা ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাবে।

মার্কিন আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ব্লুমসবারির মোট ১৪ হাজার ৮৭টি স্বত্বাধিকারপ্রাপ্ত বই এই মামলার আওতায় এসেছে। প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতিটি বইয়ের জন্য গড়ে প্রায় ৩ হাজার ডলার করে ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হয়েছে।

প্রাপ্ত এই অর্থের অর্ধেক অংশ ব্লুমসবারি নিজেদের কাছে রাখবে এবং বাকি ৫০ শতাংশ বইগুলোর মূল লেখকদের সঙ্গে সমানভাবে ভাগ করে দেবে। লন্ডনে অবস্থিত এই প্রকাশনা সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় অর্ধাংশ থেকে কিস্তিতে এই অর্থ তাদের হাতে পৌঁছাতে পারে।

ব্লুমসবারি ছাড়াও সারাহ জে মাস এবং সুসানা ক্লার্কের মতো খ্যাতনামা বহু লেখকের বই এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কপিরাইট লঙ্ঘনের দায়ে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অঙ্কের অর্থ পরিশোধের ঘটনা। গত সোমবার একজন মার্কিন ফেডারেল বিচারক এই ক্লাস-অ্যাকশন (যৌথ) মামলার সমঝোতা প্রস্তাবের অনুমোদন দেন।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন থ্রিলার লেখিকা আন্দ্রেয়া বার্টজসহ আরও দুই লেখক অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াই শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, লেখক ও প্রকাশকদের কোনো প্রকার অনুমতি বা সম্মানী না দিয়েই ক্লড এআই-এর অ্যালগরিদম উন্নত করতে তাঁদের হাজার হাজার বই ডিজিটাল আকারে ব্যবহার করা হয়েছে।

আইনি চুক্তি অনুযায়ী, সমঝোতার অর্থ প্রদান করলেও অ্যানথ্রোপিক আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধরনের অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য নয়। তবে অনুমতি ছাড়া কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি এআই কোম্পানিগুলোর ওপর প্রথম কোনো বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি ধাক্কা।

অ্যানথ্রোপিক আদালতের বিচারে দাবি করেছিল, এআই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত থাকা ডেটা বা তথ্য ব্যবহার করা আইনের ‘ফেয়ার ইউজ’ নীতির আওতায় পড়ে। তবে বিশ্বজুড়ে আইনি নজরদারি বাড়তে থাকায় তারা সম্প্রতি বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া ও প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে কনটেন্ট লাইসেন্সিং চুক্তিও সম্পাদন করছে।

প্রকাশনা খাতের জন্য এই রায়কে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, লাইসেন্স ছাড়া বিনা মূল্যে বই ব্যবহার নিয়ে এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে লেখক ও প্রকাশকদের মূল বিরোধের পুরোপুরি অবসান ঘটেনি।

ইতিমধ্যে এআই গবেষণাগার ওপেনএআই (চ্যাটজিপিটির নির্মাতা) এবং টেক জায়ান্ট মেটা-র বিরুদ্ধেও একই ধরনের একাধিক কপিরাইট মামলা মার্কিন আদালতে বিচারাধীন।