বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াইয়ে নতুন নায়কদের জন্ম দেয়নি, বদলে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার ছবিও। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে অনেক ফুটবলারের ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কেউ লাখ থেকে কোটি ক্লাবে পৌঁছেছেন, আবার কেউ নিজের আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন।

ফলোয়ার বৃদ্ধিতে সবার ওপরে হালান্ড

নরওয়েকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন আর্লিং হালান্ড। পুরো আসরে সাত গোল করে আলোচনায় ছিলেন এই স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপ শুরুর আগে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ছিল প্রায় ৪ কোটি ৬ লাখ। টুর্নামেন্ট শেষ হতে না হতেই সেই সংখ্যা ৮ কোটির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। অর্থাৎ কয়েক সপ্তাহেই তার অনুসারী বেড়েছে ৩ কোটিরও বেশি।

আরও পড়ুন

লাইক-কমেন্টের যুগে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নেই বিশ্বসেরা রদ্রির

ভোজিনহার রূপকথার উত্থান

এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি কেপ ভার্দে। প্রথমবার অংশ নিয়েই দলটি নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। আর সেই অভিযানের অন্যতম নায়ক ছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্পেনের বিপক্ষে একের পর এক দুর্দান্ত সেভের পর রাতারাতি তিনি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় চলে আসেন। যেখানে তার অনুসারী ছিল মাত্র ৫০ হাজার, সেটি অল্প সময়েই ৫০ লাখে পৌঁছে যায়। বর্তমানে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি।

ইংল্যান্ডের নতুন নায়ক বেলিংহ্যাম

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেন জুড বেলিংহ্যাম। সাত গোল করে দেশের হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন এবং দলকে সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় তার অনুসারী ছিল প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৩৩ লাখের বেশি।

রোনালদোর জনপ্রিয়তায় ভাটা নেই

পর্তুগাল শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিলেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং বিশ্বকাপে টানা ছয়টি আসরে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়ে আরও বেশি আলোচনায় আসেন তিনি। বিশ্বকালীন সময়ে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ বেড়ে মোট সংখ্যা ৬৭ কোটিরও বেশি হয়েছে।

ইয়ামালের দিকেও নজর ফুটবল বিশ্বের

স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলে তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল গোলের দিক থেকে খুব বেশি উজ্জ্বল না হলেও তার প্রতিভা মুগ্ধ করেছে ফুটবলবিশ্বকে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তার অনুসারী ছিল ৪ কোটি ৩৩ লাখ। স্পেন শিরোপা জেতার পর সেই সংখ্যা বেড়ে ৫ কোটি ৪৩ লাখে পৌঁছেছে।

নেইমারের জনপ্রিয়তা অটুট

দীর্ঘ বিরতির পর ব্রাজিল দলে ফিরলেও বিশ্বকাপটা প্রত্যাশামতো কাটেনি নেইমারের। ইনজুরির কারণে বেশিরভাগ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে এবং টুর্নামেন্ট শেষে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা কমেনি। বিশ্বকাপ চলাকালে তার অনুসারী প্রায় ৭৭ লাখ বেড়েছে।

আরও পড়ুন

ইয়ামালের প্রেমিকার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার রাতারাতি কত বেড়েছে জানেন?

মেসিও রয়েছেন সেরা দশে

শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপে নেমেছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ফাইনালের আগে পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়েও ছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতা হয়নি, তবুও টুর্নামেন্ট শেষে তার অনুসারী প্রায় ৭৫ লাখ বেড়ে যায়। জনপ্রিয়তার তালিকায় মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা, ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে এবং ব্রাজিলের এনড্রিকও সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছেন।

বিশ্বকাপ শেষ হলেও খেলোয়াড়দের জনপ্রিয়তার লড়াই থেমে নেই। মাঠের পারফরম্যান্স এখন শুধু ট্রফিই এনে দেয় না, একই সঙ্গে কোটি কোটি নতুন ভক্তও যোগ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

কেএসকে