দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়ায় হয়রানির অভিযোগ তুলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কর্মকর্তারা। এ সময় দ্রুত পদোন্নতি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে বিলম্বের কারণও জানতে চান তারা।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে অবস্থারত গণিত বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার আনোয়ার হোসেন বলেন, “পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনের বিষয়ে উপাচার্য মহোদয় বার বার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অফিসিয়ালভাবে তিনবার এসএমএস ও প্রবেশপত্রের মাধ্যমে তারিখও দেওয়া হয়েছে। তারপরও বোর্ড হয়নি। কেন এভাবে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে, সেটা আমাদের জানা দরকার। ৩০ জুনের মধ্যে পদোন্নতি না হলে ইনক্রিমেন্টের দিক থেকে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে।”

একাডেমিক শাখার সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মনজুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিভিন্নভাবে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছি, কেন আমাদের পদোন্নতি হচ্ছে না এবং এর পেছনে কারা কাজ করছে।”

তিনি আরো বলেন, “এটা আমাদের ন্যায্য অধিকার। আমরা চাই উপাচার্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন এবং আগামী ৩০ জুনের মধ্যে আমাদের পদোন্নতি দেবেন।” এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শওকাত আলী বলেন, “এটি অফিসিয়াল বিষয়। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলুন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এটি বন্ধ রয়েছে। সে কারণে আমরা পদোন্নতি দিতে পারছি না। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি। তারা অনুমতি দিলে তখন দিতে পারব।”

এর আগে গত ২৮ জুন পদোন্নতির বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রমোশনের নামে হয়রানির অভিযোগ তুলে রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনসংক্রান্ত বৈষম্য নিরসনের দাবিতে গত ২১ মে প্রথম দফায় কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা। পরে ঈদের পর ৭, ৮ ও ৯ জুনও তারা একই কর্মসূচি পালন করেন। ৯ জুন দুপুরে উপাচার্যের আশ্বাসের পর কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেন তারা। কর্মসূচিতে গণিত বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার আনোয়ার হোসেন, বাংলা বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম, একাডেমিক শাখার সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মনজুরুল ইসলাম, প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (তড়িৎ) আহসানুল হাবিবসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা অংশ নেন।