বর্ষা এলেই সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে শুরু হয় এক নতুন জীবনযুদ্ধ। প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওরবাসীর জন্য মূর্তমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায় ‘আফাল’। স্থানীয় ভাষায় দমকা বাতাসের সঙ্গে হাওরে সৃষ্ট বিশাল ও ধ্বংসাত্মক ঢেউকে বলা হয় ‘আফাল’। এই ঢেউয়ের আঘাতে ঘরবাড়ি ও বসতভিটা হারিয়ে এখন দিশেহারা হাওরপাড়ের হাজারো মানুষ।সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর, বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই, শাল্লা ও জগন্নাথপুর উপজেলার হাওরপাড়ের গ্রামগুলোতে এখন কেবলই কান্নার রোল। মধ্যনগর উপজেলার রংচী, ঢুলপুষি, পলমাটিসহ বেশ কিছু গ্রামে ঢেউয়ের আঘাতে শত শত ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দিনের চেয়ে রাতে ঢেউয়ের রূপ হয় আরও ভয়াবহ।রংচী গ্রামের বাসিন্দা মুহাম্মদ আলী বলেন, ‘ঢেউয়ের আঘাতে ঘরবাড়ি ভেঙে বহু মানুষ পথে বসার উপক্রম হয়েছে।’ পলমাটি গ্রামের গিয়াস উদ্দিন জানান, বাঁশ আর কচুরিপানা দিয়ে ঘরের চারপাশে কোনো রকমে ‘আড়ি’ (বাঁধ) দিয়ে বসতভিটা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তারা। প্রতিটি গ্রামে স্থায়ী সরকারি প্রতিরক্ষা দেয়াল (ওয়েভ প্রটেকশন ওয়াল) নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওর ও বরাম হাওর এলাকার চিত্র আরও সংকটাপন্ন। ইতিমধ্যে সেখানে শতাধিক বাড়িঘর বিলীনের পথে। মামুদনগর গ্রামের শহীদ মিয়া জানান, সপ্তাহখানেক আগে উত্তাল ঢেউ তাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। এখন দিন-রাত কাটে চরম আতঙ্কে। ভিটের মায়ায় অনেকে গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতেও পারছেন না।শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুবল চন্দ্র দাস বলেন, বর্ষায় হাওরবাসীর প্রধান শত্রু এই ‘আফাল’। স্থায়ী প্রতিরক্ষা দেয়াল ছাড়া এই জনপদকে রক্ষা করা কঠিন।শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস এ বিষয়ে বলেন, ‘বর্ষার এই সময়টা হাওরপাড়ের মানুষের জন্য সত্যিই বিপজ্জনক। আমরা এলজিইডির প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলব। আগামী মৌসুমে ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের জন্য দ্রুত একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।’/
রাজনীতি
'আফাল ' আতংকে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলবাসী

শেয়ার করুন







