পরীক্ষা-নিরীক্ষার আর সময় নেই। ভুল করারও সুযোগ নেই। একমাত্র ভুলেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে বিশ্বকাপ থেকে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে বেঞ্চের ফুটবলারদের নিয়ে পরীক্ষা করেছিল নরওয়ে। নকআউট পর্বের জন্য শক্তি সঞ্চয় করতেই তারা আর্লিং হলান্ডদের বিশ্রামে রাখে। শেষ ৩২ এর অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে আজ রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ‘আফ্রিকার হাতি’ খ্যাত আইভরি কোস্ট ও ইউরোপের প্রতিনিধি নরওয়ে।

বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া আইভরি কোস্ট ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে। আর ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে হলান্ডের নেতৃত্বে বড় স্বপ্ন দেখছে নরওয়েও। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়েও দুদলের ব্যবধান খুব বেশি নয়। নরওয়ে ২৩, আইভরি কোস্ট ৩১। ডালাসের গরম আবহাওয়ায় এই ম্যাচটি রাউন্ড অব ৩২ এর সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইগুলোর একটি হতে পারে। জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে

ব্রাজিল অথবা জাপানের। কোচ এমার্সে ফায়ের অধীনে দারুণ ছন্দে রয়েছে আইভরি কোস্ট। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ২-১ ব্যবধানে হার। শেষ ম্যাচে নিকোলাস পেপের জোড়া গোলে কুরাসাওকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপের রানার্সআপ হয় আইভরি কোস্ট। বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচেই প্রথম গোল করে ইতিহাসের দ্বিতীয় আফ্রিকান দল হিসাবে নাম লিখিয়েছে তারা।

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নরওয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিচ্ছে। ইরাককে ৪-১ এবং সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে তারা। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে হারে নরওয়ে। সেই ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন হলান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড ও আন্তেনিও নুসাসহ দলের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করেছেন হলান্ড। জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে তার গোল ৫৯। ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা। মানে, ‘আফ্রিকার হাতি’ সামলাতে হলান্ডকেই হতে হবে নরওয়ের ‘মাহুত’। তাকে আক্রমণে সহায়তা করবেন আর্সেনালের মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড।

আইভরি কোস্টের ১৯ বছর বয়সি উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দে এরই মধ্যেই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছেন। গতি, ড্রিবলিং ও আক্রমণভাগে তার সৃষ্টিশীলতা নরওয়ের রক্ষণকে ভোগাতে পারে। ডান প্রান্তে আন্তোনিও নুসার সঙ্গে তার দ্বৈরথ ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। শেষ পাঁচ ম্যাচে আইভরি কোস্টের চারটি জয় ও একটি হার। নরওয়ে পেয়েছে তিন জয়ের সঙ্গে একটি করে হার ও ড্র। পাঁচ ম্যাচে নরওয়ে ১২ গোল করে হজম করেছে নয়টি। নরওয়ের রক্ষণ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্বকাপ বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় আইভরি কোস্ট ও নরওয়ে এর আগে কখনো একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। বিশেষজ্ঞরা নরওয়েকে এগিয়ে রাখছেন।