সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ চেয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর আবেদন দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। বুধবার (২২ জুলাই) আইন সচিবের মাধ্যমে তিনি এ আবেদন করেন।

আবেদনে শিশির মনির বলেন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাঝে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান লক্ষণীয়। মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বিরাজমান। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সমন্বয়ে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট যাত্রা শুরু করে। আমাদের সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগপ্রাপ্ত হন। আপিল বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতির সংখ্যা সংবিধানে উল্লেখ নেই। সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যেরূপ প্রয়োজনবোধ করবেন সেইরূপ সংখ্যক বিচারপতি আপিল বিভাগে নিয়োগ করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে হবে কাউন্সিল, অধ্যাদেশ জারি

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর ৪ জন বিচারপতির সমন্বয়ে কার্যক্রম শুরু হয় উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, তখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫৬টি। দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬ কোটি ৪৩ লাখ।

বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৮১ লাখ। বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার ৭১৩টি। বিচারপতির সংখ্যা মাত্র চারজন। সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করতেন। তখন বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২৬০টি। ২০১১ সালে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ১০ জন, বিচারাধীন মামলা ছিল ১২ হাজার ৪৪১টি। ২০১৩ সালে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ১০ জন। বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৩৩৮টিতে।

আরও পড়ুন

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগের কাউন্সিলের দুই সদস্য নিয়োগ

২০১৭ সালে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ৯ জন। সে সময় বিচারাধীন মামলা ছিল ১৬ হাজার ৫৬৫টি। ২০২২ সালে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ৯ জন; বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে হয় ১৯ হাজার ৯২৮টি।

২০২৪ সালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ হাজার ১২০টিতে উন্নীত হয়, কিন্তু বিচারপতি ছিলেন ৮ জন। অর্থাৎ মামলার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও বিচারপতির সংখ্যা সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি।

বর্তমান সময়ে আইনের বিশেষায়িত শাখা-প্রশাখা বিকশিত হয়েছে। সেজন্য বিচারের ক্ষেত্রেও বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন করা আবশ্যক উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, কিন্তু বিচারপতির সংখ্যা কম হওয়ায় বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন

শিশির মনিরের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে ডিবি

প্রতিবেশী দেশ ভারত গত ১৬ মে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির অনুমোদিত সংখ্যা ৩৪ জন থেকে বৃদ্ধি করে ৩৮ জন করা হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তাই বিচারাধীন মামলার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা হ্রাস এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতির নিয়োগ প্রদানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন আইনজীবী শিশির মনির।

এফএইচ/এমএমকে