সাভারে ব্যবসায়ী সুমন শেখ দুই দফা অপহরণের শিকার হয়েছেন। অপহরণকারীরা তার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে। তাদের দাবি ছিল ১০ লাখ টাকা। ঘটনাটি বেশ কিছুদিন আগের হলেও রোববার এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তা প্রকাশ পেয়েছে।

জানা যায়, ৯ মে রাজাশন এলাকা দিয়ে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন সুমন শেখ। পথে সিরাজুল ইসলাম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা সুমনের পথরোধ করে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর হাত-পা বেঁধে মারধর করে। তার কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা ও একটি অপ্পো মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেয়। চার ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভয়ে ২৭ দিন আত্মগোপনে ছিলেন সুমন। এরপর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর একই গ্রুপের হাতে প্রথম অপহরণের শিকার হন সুমন। ওইদিন বিকালে তিনি হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় অপহরণকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে ভাকুর্তা ইউনিয়নের শ্যামলাসী এলাকার নির্জন ঘরে নিয়ে যায়। তারপর রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

সুমনের অভিযোগ, ওই সময় তার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তার স্ত্রী ধারদেনা করে ২ লাখ ২০ হাজার যোগাড় করে অপহরণকারীদের হাতে তুলে দিলে তিনি ছাড়া পান। বাকি টাকা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের জন্য আলটিমেটাম দেয় অপহরণকারীরা।

গুরুতর আহত সুমন প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। বাড়ি ফেরার পর তার কাছে মুক্তিপণের অবশিষ্ট টাকা দাবি করা হয়। ভয়ে আত্মগোপনে চলে যান সুমন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুমন শেখের চাচা মোরশেদ আলম ২০১৯ সালে রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকায় অবস্থিত তার মালিকানাধীন ‘রাজধানী বেকারি’র স্থাপনা ২৭ লাখ টাকায় সিরাজুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ না করায় বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, পাওনা ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায়ে তাদের আইনি পরামর্শ দেওয়ার কারণে সিরাজুল গং সুমনকে দোষারোপ করে।

এদিকে, সুমনকে নির্যাতনের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়। সাভার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নুর মোহাম্মদ সোমবার যুগান্তরকে জানান, অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাভরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ইশান যুগান্তরকে জানান, ভুক্তভোগী যাতে ন্যায় বিচার পান, সে ব্যবস্থা করা হবে।