শাড়িজুড়ে একটা আরাম আরাম ভাব। যেন দেখলেই মায়ের প্রশস্ত আঁচলে নিরাপদ আশ্রয়ের কথা মনে পড়ে যায়। নকশাগুলো পরিচিত, রংগুলো চোখে প্রশান্তি এনে দেয়। এ শাড়ির আবেদন যেন কখনো পুরোনো হয় না। বলছি বাটিক শাড়ির কথা। ফ্যাশনের সঙ্গে বাটিকের সম্পর্ক বহু পুরোনো। প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে, নিজের কল্পনার নকশা ফুটিয়ে তুলতে নানা কায়দা-কানুন আয়ত্ব করেছে মানুষ। ফলে পোশাকে উঠে আসছে হৃদয় হরণ করা সব নকশা। কল্পনা আর বাস্তবতার মিশেল চমৎকার সৌন্দর্য হয়ে ফুটে উঠছে কাপড়ের পরতে পরতে। সালোয়ার-কামিজ, ফ্রক কিংবা কুর্তি তো বটেই, বাটিক সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে শাড়িতে। শাড়ির বিশাল জমিনজুড়ে এর নজরকাড়া নকশাগুলো যেন কথা বলে। শিল্পীর ভাষা তখন সবার ভাষা হয়ে যায়।

গরমে আরামের পোশাক খুঁজতে গেলে আপনাকে বাটিকের দিকে হাত বাড়াতে হবেই। যারা ঘরে এবং বাইরে নিয়মিত শাড়ি পরতে ভালোবাসেন, তাদের সংগ্রহে বাটিকের শাড়ি থাকবেই। বিশেষ করে যারা নিয়মিত শাড়ি পরে অফিস করেন, তাদের জন্য স্বস্তির আরেক নাম যেন বাটিকের শাড়ি। সবচেয়ে বেশি পরিচিত বাটিকের সুতির শাড়ি। তবে শুধু সুতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, এখন তো মসলিন, সিল্ক, লিনেন, তসর, অ্যান্ডি কটন এমনকি খাদি কাপড়জুড়েও বাটিকের নকশা করা হয়। যখন যার যেটা প্রয়োজন, শুধু বেছে নিলেই হলো।

বাটিকের শাড়ি বাড়িতে যেমন আটপৌরে ব্যবহার করতে পারেন, তেমনই এটি বাইরেও সমান চলনসই। অফিস কিংবা ক্লাসে তো পরা যায়ই, আপনি চাইলে যে কোনো অনুষ্ঠানেও স্বাচ্ছন্দ্যে পরে যেতে পারেন বাটিকের শাড়ি। এটি এমন এক শাড়ি, যা প্রশংসা কুড়াবে সবার। রং আর নকশা আপনার রুচি অনুযায়ী বেছে নেবেন। তাতে পরে তো আপনার আরাম লাগবেই, এমনকি আপনি নিজেও হয়ে উঠবেন অন্যের চোখে প্রশান্তিকর।

আজকের ফ্যাশনেবল বাটিক কিন্তু অল্প দিনের নয়। এর পেছনে রয়েছে বহু বছরের ইতিহাস। এমনকি এই যে বাটিক শব্দটি, এটিও আমাদের ভাষার নয়। বাটিক শব্দটি এসেছে ইন্দোনেশিয়ান ভাষা থেকে। এর অর্থ কী জানেন? এর অর্থ হলো ‘বিন্দু বা ফোঁটা’। প্রাচীনকালে ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও বালি দ্বীপে বিন্দু বিন্দু মোমের সাহায্যে এ কাজের প্রচলন শুরু হয়। যা এখন আমাদের দেশে পোশাকের শিল্পকর্ম হিসাবে বিপুল জনপ্রিয়। নানা নিরীক্ষার মধ্যদিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাটিকশিল্প। একে একে এতে যোগ হচ্ছে নতুন সব অভিজ্ঞতা, নতুন সব ধরন। যেমন ধরুন, বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বল ডাই সিল্ক শিবুড়ি বাটিক।

ভেজিটেবল ডাই সিল্ক শিবুড়ি বাটিক শাড়ি হলো ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক সুন্দর সংমিশ্রণ। প্রাকৃতিক রং ব্যবহারের কারণে এটি পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং দীর্ঘস্থায়ী রং ধরে রাখতে সক্ষম। সিল্ক কাপড়ের মসৃণতা ও শিবুড়ি বাটিকের সূক্ষ্ম হাতে করা ডিজাইন প্রতিটি শাড়িকে অনন্য করে তোলে। প্রতিটি শাড়ি হাতে তৈরি হওয়ায় এতে থাকে আলাদা শিল্পের ছোঁয়া ও ভিন্নতা। ফ্যাশনের সঙ্গে সঙ্গে এটি ব্যক্তিত্ব ও রুচিরও প্রতিফলন ঘটায়। তাই ভেজিটেবল ডাই সিল্ক শিবুড়ি বাটিক শুধু একটি শাড়ি নয়, এটি এক অনন্য শিল্পকর্ম।