বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ে সেরা তৃতীয় দলের একটি হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে। নকআউট রাউন্ডে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে শক্তিশালী জার্মানিকে। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জয় পাওয়াটা সহজ হবে না তাদের জন্য। তবে প্যারাগুয়ের কোচের অনুপ্রেরণায় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে হারানোর সুখস্মৃতি রয়েছে।

প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো রবিবার বলেছেন যে, জার্মানির বিপক্ষে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর ম্যাচটি ‘আলবিরোহা’র (পারাগুয়ে দলের ডাকনাম) জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে, দলটি এর আগেও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়লাভ করেছে। ম্যাচ-পূর্ববর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে আলফারো বলেন, ‘আমরা এর আগেও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো দলের মুখোমুখি হয়েছি, যাদের মান জার্মানির সমান বা তার চেয়েও বেশি।’

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের কাছে ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। আর্জেন্টাইন কোচ প্রশ্ন রাখেন, ‘তারা সবাই বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার। আমরা তাদের মুখোমুখি হয়েছি এবং নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা তাদের বাধা অতিক্রম করতে পেরেছি। তাহলে এবার কেন পারবো না?’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ড্র নিশ্চিত করতে যে অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল তিনি ব্যবহার করেছিলেন, আলফারো আবারও তার পক্ষে যুক্তি দেন।

তিনি বলেন, বিশ্বকাপে সেরা দলগুলোকে আলাদা করার ক্ষেত্রে ‘রক্ষণাত্মক শক্তিই’ মূল ভূমিকা পালন করবে। সমালোচনার জবাবে কোচ কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন ‘পারাগুয়েই হয়তো একমাত্র জায়গা যেখানে পরবর্তী ধাপে আমাদের উত্তীর্ণ হওয়াটা উদযাপন করা হয়নি। কারণ আমরা দ্বিতীয় হয়ে যোগ্যতা অর্জন করিনি আর কোচ নাকি ভীতু।’

তিনি আরও বলেন, ‘পারাগুয়ের মানুষ যখন টেলিভিশনে বিশ্বকাপ দেখছিল, তখন অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে খেলছিল। আর আমি বলি, শুধু কোনোভাবে জিততে হবে বলেই কেন আমাদের যেকোনো উপায়ে প্রতিপক্ষকে হারাতে হবে?’

আলফারোর মতে, সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণভাগ থাকা দলটির পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব দল বলের দখল (পজেশন) বেশি রাখবে, তারাই সবচেয়ে দূর পর্যন্ত যাবে। কিন্তু তাদের যদি রক্ষণাত্মক শক্তির অভাব থাকে তবে তাদের জন্য কঠিন হবে। তাহলে শেষ পর্যন্ত কারা সফল হবে? যাদের রক্ষণভাগ সবচেয়ে শক্তিশালী।’

সবশেষে, আলফারো তার অন্যতম বড় সমালোচক হোসে লুইস চিলাভার্টের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি চাচ্ছিলাম চিলাভার্ট একা একা সমালোচনা না করে যেন আমাকে ফোন করেন এবং অরল্যান্ডো গিলের সাথে এসে কথা বলেন। জাতীয় দলের দরজা তার জন্য খোলা রয়েছে।’

আরআর/আইএন