বিশ্বকাপ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিদায় দেশটির ফুটবলকে ঘিরে এমন এক সংকটের জন্ম দিয়েছে, যা এখন আর শুধু মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে তাকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও তদন্ত জোরদার করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ।
সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, হং মিউং-বোকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে মোট আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, কোরিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) সভাপতি চুং মং-গ্যু এবং সংস্থাটির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর লি লিম-সেংয়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনি বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এই তদন্তের সূচনা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। সে সময় কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি ও বিশ্বস্ততার দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে কেএফএর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
চলতি বছর মামলাটি নতুন গতি পায়, যখন সিউল প্রশাসনিক আদালত রায় দেয় যে, হং মিউং-বোকে প্রধান প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কেএফএ অবৈধভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ফেডারেশন, যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
এদিকে তদন্ত চলার পাশাপাশি বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সমর্থকদের ক্ষোভও ক্রমেই বাড়ছে। রোববার একটি অনলাইন কমিউনিটিতে একজন লিখেছে, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে হং মিউং-বোকে হত্যা করবো।’
নিজেকে ৪১ বছর বয়সী একজন মার্কিন নাগরিক পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি দাবি করেন, জাতীয় দল দেশে ফেরার সময় ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি কোচের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছেন।
এই হুমকির পর পুলিশ জানিয়েছে, পোস্টদাতাকে শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে এবং বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হং মিউং-বো ও জাতীয় দলের আটজন খেলোয়াড় মঙ্গলবার কোরিয়ায় ফেরার কথা রয়েছে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য সহিংস বার্তারও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। শুধু হুমকিই নয়, সমর্থকদের ক্ষোভ নানা ধরনের প্রতিবাদেও প্রকাশ পাচ্ছে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে কোচকে ব্যঙ্গ করে তৈরি করা নানা ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি শেয়ার হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে নামার পর সমর্থকদের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে দৌড়াতে নির্দেশ দিচ্ছেন হং মিউং-বো। সমর্থকদের অসন্তোষ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পৌঁছে গেছে।
আনইয়াং শহরের একটি বারের প্রবেশপথে নোটিশ টাঙিয়ে জানানো হয়েছে, হং মিউং-বোর ওই প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ নিষিদ্ধ। বারটির মালিক ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সিকে বলেন, বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ম্যাচটি দেখে আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। আমার মতো অনেক মানুষই হতাশ হয়েছেন, কারণ কোচ হিসেবে তিনি কোনো সামর্থ্যেরই প্রমাণ দিতে পারেননি।’
এছাড়া গিমজে শহরের একটি কোরিয়ান বারবিকিউ রেস্তোরাঁও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হং মিয়ং-বোর ওই প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
আরএএইচইউএল/আইএন








