ঘানার আলোচিত ওঝা নানাকোয়াকু বনসাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, এবারের বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে দেবে পুচকে কেপ ভার্দে। এর আগে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে তার কালো জাদুর কেরামতিতে নাকি আটকে গিয়েছিল ইংল্যান্ড! হ্যারি কেইনকে ‘অভিশাপ’ দিয়ে আলোচনায় উঠে আসা বনসাম সম্ভবত ভুলে গেছেন যে, আর্জেন্টিনা দলে তার চেয়েও অনেক বড় একজন জাদুকর আছেন। লিওনেল মেসি নামের সেই জাদুকর এবার ভেলকি দেখাবেন নিজের ঘরে। যে শহর মেসির বর্তমান ঠিকানা, সেই মায়ামিতে শুধু ‘তুকতাক’ করে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে আটকানোর আশা চরম বোকামি। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৪টায় মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে শেষ বত্রিশের অন্যরকম এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বিশ্বকাপের বিস্ময় কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে মেসির আর্জেন্টিনা।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ৬৪ নম্বর দল কেপ ভার্দের জন্য বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলাই স্বপ্নের মতো ব্যাপার। কিন্তু অভিষেক আসরের গ্রুপপর্বে সৌদি আরবের পাশাপাশি দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়েকে রুখে দিয়ে সাফল্যের ক্ষুধা বেড়ে গেছে আফ্রিকার নীল হাঙরদের। আসরের চার নবাগত দলের মধ্যে পাঁচ লাখ ২৫ হাজার জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপদেশটি শুধু নকআউটে উঠতে পেরেছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউটে ওঠা ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে এখন আর্জেন্টিনাকে হারানোর স্বপ্ন দেখছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেস সরাসরি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারে কেপ ভার্দে। যখন কোনো দলকে নিয়ে প্রত্যাশা কম থাকে এবং সেই দলের যদি জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে, তখন অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমাদের জয়ের শতভাগ সম্ভাবনা আছে।’

স্বপ্ন দেখার অধিকার সবারই আছে। তবে বাস্তবতা বলছে, কেপ ভার্দে জিতলে সেটা হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক মহা-অঘটন। ২০১৯ কোপা আমেরিকার পর গত সাত বছরে কোনো টুর্নামেন্টের নকআউট ম্যাচে হারেনি আর্জেন্টিনা। যার কোচিংয়ে এমন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন মেসিরা, সেই লিওনেল স্কালোনির এটি জাতীয় দলের কোচ হিসাবে শততম ম্যাচ। গুরুর ‘সেঞ্চুরি’ রাঙাতে শিষ্যদের বাড়তি অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হবে না। লড়াইয়ের মঞ্চও তাদের খুব ভালোভাবে চেনা। মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামেই ২০২৪ কোপা আমেরিকা জিতেছিল আর্জেন্টিনা।

গত তিন বছর ধরে মায়ামির ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলেন মেসি। যুক্তরাষ্ট্রে চেনা কন্ডিশনে এবারের বিশ্বকাপে স্বপ্নের ফর্মে আছেন ৩৯ বছর বয়সি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। গ্রুপপর্বে দলের আট গোলের ছয়টিই করেছেন মেসি। গড়েছেন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১৯ গোল ও টানা সাত ম্যাচে গোলের রেকর্ড। তবে ১৮ গোল নিয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে তার ঘাড়ে তপ্ত নিশ্বাস ফেলায় গোলের রথ ছুটিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই মেসির সামনে। সেজন্য আজ তাকে ভাঙতে হবে ভোজিনিয়ার প্রতিরোধের দেওয়াল। কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সি এই গোলকিপার এবারের আসরের সেরা চমক। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে লামিনে ইয়ামালের স্পেনকে আটকে দিয়ে অখ্যাত থেকে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেছেন ভোজিনিয়া। তিন ম্যাচে তিনি হজম করেছেন মাত্র দুই গোল। বিশ্বকাপের ‘সারপ্রাইজ হিরো’ ভোজিনিয়া কি পারবেন মহাকালের নায়ক মেসিকেও চমকে দিতে?